নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: গত বিধানসভা ভোটে লুঙ্গি পরে ভোটের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘ফতোয়া’ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার পালাবদলের পর বারাসতেও শোনা গেল তেমনই এক ‘ফতোয়া’! দত্তপুকুরের বামনগাছি ট্রাফিক গার্ডের ওসি দেবদাস দেবনাথ অটো ও টোটো থামিয়ে চালকদের বলেছেন, হাফ প্যান্ট বা লুঙ্গি পরে গাড়ি চালানো যাবে না। তাঁর যুক্তি, এই পোশাকে গাড়ি চালালে মহিলা যাত্রীরা অস্বস্তিতে পড়তে পারেন! অন্যদিকে, বারাসত ও মধ্যমগ্রাম শহরে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে বন্ধ হবে টোটো চলাচল। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বারাসতের চাঁপাডালি মোড় থেকে বামনগাছি পর্যন্ত যশোর রোডে প্রতিদিন কয়েক হাজার অটো ও টোটো চলাচল করে। যাত্রীদের বড়ো অংশই মহিলা। অটো ও টোটোচালকের পাশের আসনেও মহিলা যাত্রীরা বসেন। মঙ্গলবার যশোর রোডে অটো ও টোটো থামিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলেন বামনগাছি ট্রাফিক গার্ডের ওসি দেবদাস দেবনাথ। তিনি বলেন, মহিলা যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে হাফ প্যান্ট বা লুঙ্গি পরে গাড়ি না চালাতে। চালকদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, গাড়িতে মহিলাদের সামনে হাফ প্যান্ট বা লুঙ্গি পরে গাড়ি চালাতে লজ্জা করে না? এই ফতোয়ার বিরোধিতা করেননি চালকরা। অটোচালক মহম্মদ আসাউদ্দিন বলেন, পুলিশ জানিয়েছে, হাফ প্যান্ট বা লুঙ্গি পরে অটো-টোটো চালানো যাবে না। আমরা অবশ্যই এ কথা মানব। এনিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার ট্রাফিকের ডিএসপি নীহাররঞ্জন রায় বলেন, এব্যাপারে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ট্রাফিকের ওই ওসি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একথা বলেছেন। চালকরাও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত হয়েছেন।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সদর বারাসতের উপর দিয়ে গিয়েছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। রয়েছে যশোর রোড ও টাকি রোড। মধ্যমগ্রামের উপরেও রয়েছে যশোর রোড। সব সড়কে টোটোর দৌরাত্ম্যে নাকাল হচ্ছেন মানুষ। যানজট সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। অতীতে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। বারাসত শহরে প্রায় ১০ হাজার টোটো চলাচল করে। মঙ্গলবার জেলাশাসকের দপ্তরে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রচারের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে। তারপর আগামী সপ্তাহ থেকে দুই শহরের জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হবে। এনিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার ডিএসপি (ট্রাফিক) নীহাররঞ্জন রায় বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত। বারাসত এবং মধ্যমগ্রাম শহরে এটি প্রথম কার্যকর করা হচ্ছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই শহরের বাসিন্দারা।