Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

কম খরচে আর্সেনিকমুক্ত হবে পানীয় জল, আবিষ্কার আইআইটির বাঙালি অধ্যাপকের, শীঘ্রই শুরু বাণিজ্যিক ব্যবহার

পানীয় জলে থাকবে না আর্সেনিক। থাকবে না অন্য কোনো দূষণ সৃষ্টিকারী উপাদানও। বিশেষ পদ্ধতিতে অত্যন্ত কম খরচে কয়েক মিনিটের মধ্যেই দূষণমুক্ত হবে পানীয় জল।

কম খরচে আর্সেনিকমুক্ত হবে পানীয় জল, আবিষ্কার আইআইটির বাঙালি অধ্যাপকের, শীঘ্রই শুরু বাণিজ্যিক ব্যবহার
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: পানীয় জলে থাকবে না আর্সেনিক। থাকবে না অন্য কোনো দূষণ সৃষ্টিকারী উপাদানও। বিশেষ পদ্ধতিতে অত্যন্ত কম খরচে কয়েক মিনিটের মধ্যেই দূষণমুক্ত হবে পানীয় জল। কমবে ক্যানসারের আশঙ্কা। দূষিত জল পান করে চরম শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না সাধারণ মানুষকে। এমনই চমকপ্রদ আবিষ্কার করেছেন আইআইটি গুয়াহাটির বাঙালি অধ্যাপক মিহিরকুমার পুরকাইত। আইআইটি গুয়াহাটি ডিপার্টমেন্ট অব কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক মিহিরবাবু তাঁর সহযোগী রিসার্চ স্কলার মুকেশ ভারতীকে সঙ্গে নিয়ে কার্যত এহেন অসাধ্য সাধন করেছেন। প্রসঙ্গত, ঘরে ঘরে নলবাহিত বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর প্রেক্ষিতে অধ্যাপক পুরকাইত ও তাঁর টিমের এহেন উদ্ভাবনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। মিহিরবাবুর দাবি, কোনোরকম রাসায়নিকের ব্যবহার ছাড়াই পানীয় জল আর্সেনিক মুক্ত করা সম্ভব হবে। বরং এক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে বিদ্যুৎ। 

Advertisement

এই পদ্ধতিতে দূষিত জলে থাকবে ইলেক্ট্রোডস। বিদ্যুৎ পরিবাহিত করে ওই ইলেক্ট্রোডস থেকে নির্গত করানো হবে মেটাল আয়ন। তা জলের মধ্যে থাকা আর্সেনিক বা দূষণ সৃষ্টিকারী অন্যান্য ক্ষতিকারক উপাদানকে আকৃষ্ট করে জমাট বাঁধিয়ে দেবে। বিশেষ পদ্ধতিতে তা জল থেকে বের করে দেওয়া হবে। ‘বর্তমান’কে অধ্যাপক পুরকাইত জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়ার জন্য দু’-তিন মিনিটই যথেষ্ট। 
খরচের দিক থেকে কীভাবে সাশ্রয়কর হবে জল দূষণমুক্ত করার এই বিশেষ পদ্ধতি? উদ্ভাবকদের দাবি, এক ঘনমিটার দূষিত জল আর্সেনিক মুক্ত করতে এক্ষেত্রে ০.৩৬ ইউনিট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। ফলে প্রতি এক হাজার লিটার জল পরিশুদ্ধ করতে খরচ পড়বে ৮-৯ টাকা। আইআইটি গুয়াহাটির উদ্ভাবকরা জানিয়েছেন, যেখানে প্রতিদিন ১০ থেকে ৫০ কিলো লিটারের বেশি জল পরিশুদ্ধ হয় না, তেমনই একটি ছোট কমিউনিটি-স্কেল প্ল্যান্টেও এক্ষেত্রে খরচের পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকায় পৌঁছে যায়। উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি লিটার জলে ১০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিক বা অন্য কোনো ক্ষতিকারক পদার্থ থাকলেই তা দূষিত হিসাবে বিবেচিত হয়। বাঙালি অধ্যাপকের এহেন উদ্ভাবন কয়েক মিনিটেই প্রতি লিটার জলে আর্সেনিকের পরিমাণ ১০ মাইক্রোগ্রামের নীচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবে। নিয়মিতভাবে আর্সেনিক মেশা জল বা দূষিত জল শরীরে গেলে তা ক্যানসারের মতো মারণরোগেরও জন্ম দিতে পারে। জলশক্তি মন্ত্রকের তথ্যই বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের নিরিখে সারা দেশে এমন মোট ৩১৪টি এলাকা রয়েছে, যেগুলি আর্সেনিক কবলিত। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাও।
মিহিরকুমার পুরকাইত (ডানদিকে) ও মুকেশ ভারতী।

সম্পর্কিত সংবাদ