Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলের দাবিতে অবরোধ ঘিরে তপ্ত কুলটির নিয়ামতপুর, পুলিসের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ

জলের দাবিতে অবরোধ ঘিরে তপ্ত কুলটির নিয়ামতপুর, পুলিসের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ
  • ২১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পর্যাপ্ত জল না পাওয়ার অভিযোগ তুলে অবরোধ-আন্দোলন ঘিরে কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির লছিপুর গেট এলাকায় উত্তেজনা ছড়াল। মঙ্গলবার সকালে আসানসোল পুরসভার ৫৯ ও ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দার জিটি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। অভিযোগ, তিন বছর ধরে তাঁরা পর্যাপ্ত জল পাচ্ছেন না। অফিস টাইমে জিটি রোড অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক যানজট হয়। নিত্যযাত্রীরা হয়রানির শিকার হন। পর্যাপ্ত জল পাওয়ার প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলতে চাননি আন্দোলনকারীরা। তারপরই পুলিসের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তি হয়। পুলিস একাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিস লাঠিচার্জ করেছে। যদিও লাঠিচার্জের অভিযোগ মানতে চায়নি পুলিস। আন্দোলনকারীরা এরপর কুলটি বরো অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। 

Advertisement

আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের এসিপি জাভেদ হোসেন বলেন, দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ থাকায় সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত হয়রানির হন। রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়েছে। কোনও লাঠিচার্জ বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। 
কুলটিতে পানীয় জলের সমস্যা বহু পুরনো। জলপ্রকল্প করা হলেও বহু এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা মেটেনি। পুরসভার ৫৯, ৭৩ ওয়ার্ডের লছিপুর গেট, আকনবাগান, মাঝিপাড়া, ব্রহ্মচারীস্থান এলাকায় জলসঙ্কট রয়েছে। বছরের পর বছর জল না পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছেন। সকলে একত্রিত হয়ে এদিন আন্দোলন নামেন। জিটি রোড অবরোধ করা হয়। প্রায় ৪০ মিনিটের বেশি সময় ধরে অবরোধ চলার পর তা তুলতে তৎপর হয় পুলিস। তখনই চূড়ান্ত উত্তেজনা ছড়ায়। দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি, টানাটানি চলতে থাকে। লাঠি উঁচিয়ে পুলিস তাড়া করে। একাধিক আন্দোলনকারীকে পুলিসের গাড়িতে তুলতেও দেখা যায়। পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা কুলটির বরো অফিসে ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে আসানসোল পুরসভার মেয়র পারিষদ ইন্দ্রাণী মিশ্র সমস্যা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করেন বাসিন্দারা। 
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন যে জলপ্রকল্পে আকনবাগানে একটি ওয়ারহেড জলের ট্যাঙ্ক গড়ে উঠছে। তা চালু হয়ে গেলে এলাকার জলের সমস্যা মিটে যাবে। কিন্তু যতদিন না তা হচ্ছে বাসিন্দাদের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ট্যাঙ্কারে করে জল সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে পুরসভা। মেয়র পারিষদ ইন্দ্রাণী মিশ্র বলেন, পাঁচটি এলাকার মানুষের অত্যন্ত জলকষ্ট রয়েছে। তাই আন্দোলনে নেমেছিলেন। প্রতিদিন ওই এলাকায় দশটি করে ট্যাঙ্কার জল সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ