নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: দু’টি বাসের রেষারেষির জেরে মঙ্গলবার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এক পড়ুয়ার। সল্টলেক ২ নম্বর গেটের ওই দুর্ঘটনার পর কার্যত নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। বুধবার সকাল থেকেই দুর্ঘটনাস্থলে যান নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে পুলিস। কারণ, স্থানীয়দের অভিযোগ, যান নিয়ন্ত্রণ না হওয়ার জন্যই রেষারেষি বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, সিগন্যালের আগের গাড়ির গতিবেগ কমানোর জন্য স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের আগে রাস্তায় যেখানে খানাখন্দ ছিল, সেখানে রাতারাতি তাপ্পিও দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার পর মৃতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে রেষারেষি করা দু’টি বাসের চালককেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিস। এদিন তাঁদের বিধাননগর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে পুলিস তাঁদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেছিল। আদালত তিনদিনের পুলিসি হেফাজত মঞ্জুর করেছে।
Advertisement
মঙ্গলবার স্কুল থেকে মায়ের স্কুটারে চেপে বাড়ি ফিরছিল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আয়ূষ পাইক। স্কুটারের পিছনেই দু’টি বাসের রেষারেষি চলছিল। সল্টলেক ২ নম্বর গেটে তাদের স্কুটারে একটি বাস ধাক্কা দেয়। তার জেরে প্রাণ হারায় আয়ূষ। ওই ঘটনার পর এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলে অবরোধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, যান নিয়ন্ত্রণ ঠিক মতো হয় না। তার জন্য প্রায়ই বাস, বাইক এমনকী গাড়ির মধ্যেও রেষারেষি চলে। নিয়ন্ত্রণ থাকলে এই ধরনের রেষারেষি করার কেউ সাহসই দেখাবে না। তাই বিক্ষোভেও যান নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছিল। এদিন সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিসকর্মীরা দু’টি লেনে দাঁড়িয়ে দিনভর যান নিয়ন্ত্রণ করেছেন। বাঁদিক দিয়ে যে বাইকগুলি একেবারে ফুটপাতের দিকে চলে যায়, তাদের সঠিক জায়গায় হাত তুলে দাঁড় করানো হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত সকলেই সিগন্যালের একেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়াতেন। এদিন কিছুটা দূরে সকলকে দাঁড় করানো হচ্ছে। সিগন্যালের কাছে এসে বহু গাড়ির গতি বেড়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তাই মঙ্গলবার রাতেই কাজ করে সিগন্যালের আগে প্রতীক্ষালয়ের সামনে স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছে। সেখানেই রাস্তার পাশে কিছু খানাখন্দ হয়ে উঠেছিল। সেগুলি রাতেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। তবে, অন্যান্য জায়গাতেও ওই ধরনের খানাখন্দ রয়েছে। সেখানেও অবিলম্বে তাপ্পি দিয়ে ঠিক করার দাবি উঠেছে। বিধাননগর পুরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেখানে রাস্তা খারাপ রয়েছে, তা ঠিক করে দেওয়া হবে।



