• প্রাণ চঞ্চল আবু। বাগদাদ শহরের আনাচে কানাচে তার গতিবিধি। সদা ছটফটে এই ছেলের হইহুল্লোড় না করলে রাতে ঘুম আসে না। স্বাভাবিক ভাবেই বন্ধুদের আনাগোনা লেগেই থাকত আবুর বাড়িতে। কিন্তু কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সে বোঝে বন্ধুরা তাকে নয়, তার বৈভবকে পছন্দ করে। এই উপলব্ধি থেকে আবু বন্ধু সঙ্গ ত্যাগ করে। আঁকড়ে ধরে মাকে। ছোটো ছেলের মতো আবু মায়ের আঁচল ধরে ঘোরে। মা-ও সারাক্ষণ আগলে রাখে আবুকে। এই প্রাণচঞ্চল আবুর জীবন আলেখ্য নিয়ে নান্দীরঙ্গের প্রযোজনা ‘আবু হোসেন’। গল্পটি গিরিশ চন্দ্র ঘোষ রচিত হলেও পরবর্তীতে বাদল সরকার নাট্যরূপ দেন। নান্দীরঙ্গ নাটকটি প্রযোজনার সময় পরিমার্জন করে মঞ্চায়ন করে। নাটকটির আকর্ষণ গান। সংগীতের সমারোহে নাটক হয়ে উঠেছে সুরময়।
নাটক শুরুর আগে নাট্য বন্দনা ও নাটকের নেপথ্য কথন অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে দর্শক দরবারে তুলে ধরার অভিনবত্ব চোখে পড়ে। উর্দুতে লেখা নাটকের গান দর্শকদের কথা ভেবে পরিবর্তন করে পরিচিত হিন্দি, বাংলা গানের সুরে ব্যবহার করা হয়েছে। তাতে নাটকের তাল কাটেনি, বরং মনোগ্রাহী হয়েছে।
এই নাটকে বহু চরিত্রের সমাবেশ। প্রথমেই বলতে হয় আবুর কথা। আবু চরিত্রটিকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন সপ্তর্ষি ভৌমিক। চরিত্রের প্রতিটি শরীরী ভাষার পাশাপাশি মঞ্চ জুড়ে শারীরিক কসরত দর্শকদের মন কেড়েছে। মায়ের চরিত্রে লিপি সাহা আবুকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন। অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিজ্ঞতার জোরে সব চরিত্রেই নজর কেড়েছেন। আকর্ষণীয় তাঁর বাচন ভঙ্গি। হারুন আল রশিদ (সুমন সিংহ রায়) নাটকের অন্যতম আকর্ষণীয় এক চরিত্র। রোশেনার চরিত্রে মৌ রায়চৌধুরী শুধু অভিনয়ে নয়, কণ্ঠেও দর্শকদের মন ছুঁয়েছেন। সূত্রধরের কাজ করেছেন বৃদ্ধ বাদশা (শুভঙ্কর ভট্টাচার্য)। নাটকটির সুন্দর পরিচালনা শুধু নয়, নাটকে বেশ কিছু ভালো কম্পোজিশন তৈরি করেছেন পরিচালক তিতাস ঠাকুর। তাঁকে আলোয় সাধন পাড়ুই, আবহে শুভজিৎ দাস ও মঞ্চ পরিকল্পনায় বিলু দত্ত যোগ্য সহযোগিতা করেছেন।
তাপস কাঁড়ার