Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দরিদ্র পড়ুয়াদের ফি মকুবে অমান্য রাজ্যের নির্দেশকে,শিল্পাঞ্চলে বেসরকারি স্কুলগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ

‘সবার জন্য শিক্ষা’ শিক্ষার অধিকার আইনের মূল লক্ষ্যই অপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে। মেধাবী পড়ুয়া হয়েও দুঃস্থ পরিবারের সন্তানরা নামী বেসরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। অভিযোগ, ফি মকুব করে দুঃস্থ পরিবারের পড়ুয়াদের ভর্তি নিতে আগ্রহী নয় বহু বেসরকারি স্কুল।

দরিদ্র পড়ুয়াদের ফি মকুবে অমান্য রাজ্যের নির্দেশকে,শিল্পাঞ্চলে বেসরকারি স্কুলগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ
  • ২১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘সবার জন্য শিক্ষা’ শিক্ষার অধিকার আইনের মূল লক্ষ্যই অপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে। মেধাবী পড়ুয়া হয়েও দুঃস্থ পরিবারের সন্তানরা নামী বেসরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। অভিযোগ, ফি মকুব করে দুঃস্থ পরিবারের পড়ুয়াদের ভর্তি নিতে আগ্রহী নয় বহু বেসরকারি স্কুল। অথচ ‘রাইট অব চিলড্রেন টু ফ্রি অ্যান্ড কম্পালসারি এডুকেশন অ্যাক্ট ২০০৯’ অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে মোট পড়ুয়ার ২৫শতাংশ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের থেকে নিতে হবে। এই নির্দেশিকা পালন হচ্ছে কিনা তা জানানোর জন্য জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক কুলটি বিধানসভা এলাকার সব বেসরকারি স্কুলকে নোটিস করে। গতবছর ১ আগস্ট নোটিস দেওয়া হলেও সেই রিপোর্ট পায়নি শিক্ষাদপ্তর। এবার জেলার প্রতিটি বেসরকারি স্কুলকে এই নোটিস পাঠিয়ে উত্তর তলব করছে জেলা শিক্ষা দপ্তর। 
Advertisement
অতিরিক্ত জেলাশাসক(শিক্ষা) সঞ্জয় পাল বলেন, আগস্ট মাসে কুলটি বিধানসভা এলাকার স্কুলগুলিকে তথ্য জানাতে নোটিস করা হলেও কোনও স্কুল উত্তর দেয়নি। জেলার প্রতিটি বেসরকারি স্কুলকে এই নোটিস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষগুলির সংগঠন ‘সহদয়া স্কুল কমপ্লেক্সে’র ওয়েস্টবেঙ্গল চ্যাপ্টারের সভাপতি পাপিয়া মুখোপাধ্যায় বলেন, স্কুলে এই ধরনের কোনও আবেদন এলে আমরা বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে বিচার করি। ফি-কনসেশন দিয়ে ভর্তি করানো হয়। 
ঘটনার সূত্রপাত গতবছর জুলাই মাসে। ১৮জুলাই পশ্চিম বর্ধমানের যুব কংগ্রেসের সহ সভাপতি রবি যাদব জেলাশাসককে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। শিক্ষার অধিকার আইনের নানা ধারা উল্লেখ করে তিনি জেলাশাসককে অভিযোগ করেন, বেসরকারি স্কুলগুলি আইন মানছে না। কুলটি বিধানসভা এলাকার স্কুলগুলি নিয়েই তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, মানবিকতার প্রশ্ন নয়, আইন অনুযায়ী প্রতিটি স্কুলকে তাদের মোট পড়ুয়ার ২৫শতাংশ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। যাদের বিনামূল্যে শিক্ষা দিতে হবে। বেশিরভাগ স্কুলই তা পালন করছে না। জেলাশাসক অভিযোগ পেয়েই জেলা শিক্ষা দপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সেইমতো জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) ১আগস্ট কুলটি বিধানসভার প্রতিটি বেসরকারি স্কুলকে নোটিস করেন। আ‌঩‌ই঩নের একাধিক ধারা উল্লেখ করে তিনিও স্পষ্ট করেছেন, অর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে ২৫শতাংশ পড়ুয়াকে ভর্তি নিতেই হবে। এই বিষয়টি নিয়ে নথি সহ সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব করা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও স্কুলগুলি সেই রিপোর্ট পাঠায়নি। রহস্যজনকভাবে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকও এনিয়ে আর কোনও উচ্চবাচ্য করেননি।
শিল্পাঞ্চলে কান পাতলেই শোনা যায়, কোথাও প্রভাবশালীর নিজের স্কুল রয়েছে, কোথাও আবার স্কুলের মাথার উপর প্রভাবশালীর হাত রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের নামী স্কুলগুলিতে গড়ে বার্ষিক ফি ৩০-৪০হাজার টাকা। তার ২৫ শতাংশ ‘ইকোনমিক কোটা’ গায়েব করে ফি নিয়ে ভর্তি হলে টাকার অঙ্ক সহজেই অনুমেয়। 
কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক প্রসেনজিৎ পু‌ইতণ্ডি বলেন, এনিয়ে শাসক-বিরোধী সব দলের মুখে কুলুপ কেন? আমরা কুলটি নিয়ে অভিযোগ করেছিলাম। সোমবার আসানসোলের একটি স্কুলে অভিযোগ করেছেন আমাদের ব্লক সভাপতি শাহ আলম।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ