সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরের সূর্যপুর ফের শিরোনামে। যে সূর্যপুর এক মাস আগে উত্তাল হয়েছিল এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায়, যে গ্রামের পুলিশ ক্যাম্পের বদান্যতায় গা-ঢাকা দিয়েছিল অপরাধীরা, সেই সূর্যপুরের পুলিশই ঘরে ফেরাল ঘরছাড়া আরেক নাবালিকাকে।
সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরের সূর্যপুর ফের শিরোনামে। যে সূর্যপুর এক মাস আগে উত্তাল হয়েছিল এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায়, যে গ্রামের পুলিশ ক্যাম্পের বদান্যতায় গা-ঢাকা দিয়েছিল অপরাধীরা, সেই সূর্যপুরের পুলিশই ঘরে ফেরাল ঘরছাড়া আরেক নাবালিকাকে।
সূর্যপুরের ওই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তড়িঘড়ি সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেছিলেন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই ফাঁড়িতেই হন্তদন্ত হয়ে এক মহিলা এসে জানান, তাঁর ১৭ বছরের মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রাগারাগি করে বিকাল ৫টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। অভিযোগ পেয়ে আর কালক্ষেপ করেননি পুলিশ অফিসাররা। তাঁরা জানতে পারেন, বাড়ি থেকে বেরনোর সময় কিশোরীর পরনে ছিল গোলাপি রংয়ের চুড়িদার। সূত্র বলতে তাঁরা হাতে পান নাবালিকার ফোন নম্বর। আর অভিযোগকারীর বর্ণনা থেকে ধারণা হয় কিশোরীর গড়নের। সম্বল বলতে এইটুকুই। নিখোঁজ কিশোরীর ছবি পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তড়িঘড়ি পুলিশ অফিসার সামিনুল হোসেন ও এসআই অনির্বাণ চৌধুরীর নেতৃত্বে দু’টি টিম গঠন করে মাঠে নামেন উর্দিধারীরা।
মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে জানা যায়, তার অবস্থান মাধবপুর স্টেশনে। সঙ্গে সঙ্গে একটি টিম সেখানে ছোটে। কিন্তু তার হদিশ মেলে না। এর মধ্যে কিশোরী তার মোবাইল ফোনের সুইচ অফ করে দেয়। আরও বিপাকে পড়ে তদন্তকারী দল। পরে সে ফের মোবাইল খুললে পুলিশের নেটওয়ার্কে চলে আসে তার অবস্থান। দেখা যায়, সোনারপুর স্টেশনে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানাকে বিষয়টি জানানো হয়। অনির্বাণ চৌধুরীর টিম সোনারপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সোনারপুর থানার পুলিশ জানায়, ওই পোশাকের এক কিশোরীকে ট্রেনে করে শিয়ালদহের দিকে যেতে দেখা গিয়েছে। তদন্তকারীদের এবারের গন্তব্য শিয়ালদহ স্টেশন। কিন্তু অত বড়ো স্টেশনে এত লোকের মাঝে খোঁজ মিলবে কী করে?
শেষমেশ রাত আড়াইটে নাগাদ ওই টিমের এক মহিলা সদস্যা লক্ষ্য করেন, গোলাপি চুড়িদার পরা এক কিশোরী একা স্টেশনের এক কোণে মোবাইল ফোনে চার্জ দিচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে গিয়ে কথা বলেন তিনি। নিখোঁজ কিশোরীর মোবাইলের নম্বরের সঙ্গে মিলে যায় তার ফোন নম্বর। উদ্বেগের অবসান হয় পুলিশের। এরপর তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন তাঁরা। তদন্তকারী অফিসার বলেন, ওই নাবালিকা মানসিকভাবে অসুস্থ। এর আগেও একবার বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। ওই রাতে প্রথমে সূর্যপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে করে সে লক্ষ্মীকান্তপুরে যায়। আবার ফিরতি ট্রেনে শিয়ালদহে চলে আসে।
কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সূর্যপুর ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযানে নামায় মেয়ে বাড়ি ফিরতে পারল। গত ৫ জুলাই সূর্যপুর ক্যাম্পের পুলিশ নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর যদি এই তৎপরতা দেখাত, তাহলে হয়ত তাকে অকালে হারাতে হত না।