সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর শহরের ওয়ার্ডগুলির নিকাশি নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নিকাশি বেহাল হওয়ায় বর্ষার মরশুমে রাস্তায় জল জমে যায়। রাস্তাঘাটে চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে বাসিন্দাদের। শহরের ঘূর্ণি শিবতলা লেনের রাস্তার ড্রেন আবর্জনায় ভর্তি। জল যাওয়ার কোনও জায়গাই নেই। কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, আমরা শহরজুড়ে প্রায় ৪ কোটি টাকার ড্রেন সংস্কারের কাজ করেছি। এখন প্রচুর বৃষ্টিতে শহরের কোনও কোনও জায়গায় জল জমলেও তা দ্রুত নেমে যায়। আগামী দিনেও এনিয়ে আমাদের সুর্নিদিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আশা রাখি দ্রুত সেই কাজ শেষ করতে পারব।
চলতি বর্ষায় কিছুদিনের বৃষ্টিতে ক্ষৌণীশ পার্কের পাশে, মোংলাপাড়া মাঠ সংলগ্ন অঞ্চলে,ঘূর্ণির একাধিক অঞ্চলে জমা জল আটকে রয়েছে।কোথাও ড্রেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে তো কোথাও আবার পরিষ্কার না থাকার কারণে জল বেরোতে পারছে না। ফলে নোংরা জল জমে থেকে ছড়াচ্ছেদুর্গন্ধ।তৈরি হচ্ছে মশার প্রজননক্ষেত্র। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার আশঙ্কা নিয়েও যথেষ্ট উদ্বেগে শহরবাসী। স্থানীয় মানিকপাড়ার বাসিন্দা অজয় সিংহ বলেন, টাওয়ার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় একটু বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। মানুষের চলাফেরা করতে খুব অসুবিধা হয়। জমা জলেভোগান্তি বাড়বে। বেলেডাঙার এক গৃহবধূ টুম্পা দাস বলেন, একদিনের বৃষ্টি হলে ক্ষৌণীশ পার্কের পাশে দীর্ঘদিন জল জমে থাকে। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোই মুশকিল হয়ে যায়। বড়রাও কাজে যেতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে।
আবার মোংলাপাড়া অঞ্চলের এক বাসিন্দার কথায়, শহরের রাস্তায় নর্দমার জল জমে থাকা এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। রাস্তাঘাটের অবস্থাও খুব খারাপ। আমরা একাধিকবার পুরসভাকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। কৃষ্ণনগরের বাসিন্দাদের মতে, এই শহরের নিকাশি নিয়ে পুরসভা কাজ করছে। কিন্তু বেশকিছু জায়গা এখনও বিপর্যস্ত। যা বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।