বর্তমান সময়ে সমস্ত কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে প্রযুক্তি। তাতে নয়া দিগন্ত খুলে দিয়েছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই। বাংলায় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। বিশ্ববাজার দখল করতে এই হাতিয়ারকে ব্যবহার করতে তৎপর টেক জায়েন্টরা। এই লড়াইয়ে এতদিন একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়েছে মার্কিন সংস্থা ওপেনএআই, গুগল, মেটার মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি। এবার আমেরিকার রাজত্বে ভাগ বসাতে হাজির হয়েছে চীনও! আবির্ভাবেই তাদের নয়া এআই পরিষেবা ‘ডিপসিক’ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে ‘চ্যাটজিপিটি’, ‘জেমিনি’কে। জমে উঠেছে বিশ্বের দুই প্রান্তের দুই মহাশক্তিধর দেশের ‘কৃত্রিম মেধার যুদ্ধ’। কিন্তু মজার কথা হল, ডিপসিককে তিয়েন আন মেন স্কোয়্যার নিয়ে প্রশ্ন করলে স্যরি ছাড়া কোনও উত্তর আসছে না। আবার অরুণাচল প্রদেশের কথা জিজ্ঞেস করলেও সেই একই উত্তর। চ্যাটজিপিটি কিন্তু স্পষ্টই বলেছে, অরুণাচল ভারতের অঙ্গরাজ্য। কী রয়েছে ডিপসিক-এ? এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং। অন্যান্যদের থেকে অনেক গুন কম খরচে অত্যাধুনিক ফিচার্সযুক্ত এই পরিষেবা আনা হয়েছে। যেখানে অন্যান্য সংস্থার পরিষেবা বেশ খরচ সাপেক্ষ, সেখানে ১৯০ টাকায় ডিপসিকের ১০ লক্ষ টোকেন পাওয়া যাবে। দক্ষতাতেও অন্যদের টেক্কা দিচ্ছে এই চীনা প্রযুক্তি। জানা গিয়েছে, ওপেনএআই ও মেটার মতো সংস্থাগুলির অ্যাডভান্সড মডেলে এনডিডিয়ার এইচ১০০ জিপিইউর মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল এআই চিপ দরকার। তুলনায় অনেক সস্তা এআই হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ার তাক লাগিয়ে দিয়েছে ডিপসিক। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, চীনে উন্নত প্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। তাতে থেমে থাকেনি গবেষণা। বিকল্প পথেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের নয়া দিক উন্মোচন করেছে তারা। চীনের এই সাফল্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মার্কিন মুলুকে। তার প্রভাব পড়েছে স্টক মার্কেটেও। প্রযুক্তির দুনিয়ায় হইচই ফেলা দেওয়া এই সংস্থার বয়স মাত্র দু’বছর। ২০২৩ সালে হ্যাংঝাউতে ছোট্ট একটি স্টার্টআপ তৈরি করেন লিয়াং ওয়েনফেং। স্বল্প সময়ে তাঁদের এই সাফল্য গোটা বিশ্বের চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছে।



