নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, হাওড়া ও চুঁচুড়া: সকালে হুগলির ভদ্রেশ্বর স্টেশনের কাছে একটি মালগাড়ির ইঞ্জিন লাইনচ্যুত। দুপুরে হাওড়া স্টেশনে ঢোকার মুখে ওভারহেড তারে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড়োসড়ো গোলযোগ। কাজের দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাওড়া শাখায় জোড়া বিপত্তির ফলে বর্ধমান পর্যন্ত লোকাল ট্রেনের পরিষেবা দিনভর বিপর্যস্ত হয়ে থাকল। মালগাড়ির ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে হাওড়া-ব্যান্ডেল লাইনে ট্রেন চলাচল দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হয়। আর দুপুরের ঘটনায় হাওড়া স্টেশনের ১ থেকে ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হাওড়া-বর্ধমান মেইন ও কর্ড—দুই লাইনেই। স্টেশনে স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে একের পর এক লোকাল। দুর্ভোগে জেরবার হতে হয় যাত্রীদের।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল যাচ্ছিল একটি খালি মালগাড়ি। ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ ভদ্রেশ্বর স্টেশনের কাছে সেটি রিভার্স লাইন থেকে মেইন লাইনে ওঠার সময় ইঞ্জিন বেলাইন হয়ে যায়। প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা না হলেও দিনের ব্যস্ত সময়ে আপ ও রিভার্স লাইন অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ব্যান্ডেল, বর্ধমান ও কাটোয়াগামী একের পর এক লোকাল বিভিন্ন স্টেশনে আটকে যায়। প্রভাব পড়ে হাওড়া-বালুরঘাট এক্সপ্রেসের মতো দূরপাল্লার ট্রেনেও। শেওড়াফুলি বাজারে আসা সবজি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থী ও হাজার হাজার নিত্যযাত্রী—সমস্যায় পড়েন সবাই। মগরা থেকে শেওড়াফুলি বাজারে সবজি নিয়ে আসেন বাবলু দাস। তিনি বলছিলেন, ‘সকালের বাজার ধরতে না পারলে বিরাট লোকসান। আমাদের কপালে আজ সেটাই ছিল!’ লাইনচ্যুত ইঞ্জিন সরানোর পর দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
মাঝখানে ঘণ্টাখানেকের বিরতি! বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে হাওড়া স্টেশনে ঢোকার প্রায় ১০০ মিটার আগে ওভারহেড লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয়। রুট রিলে ইন্টারলকিং কেবিনের সামনে পয়েন্ট অ্যান্ড ক্রসিংয়ে দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয় আপ বর্ধমান লোকাল। এরপর হাওড়ার ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রেন বেরোনো বন্ধ হয়ে যায়। হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইনের পাশাপাশি কর্ড লাইনেও পরিষেবা ব্যাহত হতে থাকে। অন্যদিকে, হাওড়াগামী একের পর এক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে। কোথাও এক ঘণ্টা, কোথাও দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় থমকে থাকে ট্রেন। লিলুয়া, টিকিয়াপাড়া, বেলুড়সহ বিভিন্ন স্টেশনে বহু যাত্রীকে রীতিমতো ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন ধরে হেঁটে এগতে দেখা যায়। তারকেশ্বর লোকালের যাত্রী মামণি কর্মকার বলেন, ‘দুপুর ২টো নাগাদ লিলুয়ায় পৌঁছানোর কথা ছিল। পৌঁছালাম ৪টায়। তাও প্রায় এক কিমি হাঁটতে হল রেললাইন ধরে।’ রেল সূত্রে দাবি, বিকাল সাড়ে ৪টে নাগাদ ওভারহেড তারের সমস্যা সম্পূর্ণ মিটে গিয়েছে। যদিও ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, আপ লাইনে পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে সময় লেগেছে আরও প্রায় এক ঘণ্টা।