সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: ভোটের আগে পর্যন্ত তিনিই ছিলেন কোচবিহার জেলার শেষ কথা। দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা। রাজ্যের তৎকালীন শাসকদলের জেলা সভাপতি। স্বাভাবিক কারণেই পুলিশ মহলের নীচুতলার তাঁর যথেষ্ট প্রভাব ছিল। সেই দাপুটে তৃণমূল নেতাই এখন কোচবিহার কোতোয়ালি থানার লকআপে।
জেলার এই থানায় ঢুকতেই প্রথমে যে রুমটি চোখে পড়ে সেখানেই ডিউটি অফিসার বসেন। এই রুমের একদিকে রয়েছে পুরুষদের লকআপ। সেখানেই মেঝেতে কম্বলের ওপর একটি চাদর পাতা। সেই চাদরে ‘নিঃসঙ্গ’ বসে রয়েছেন তৃণমূল নেতা অভিজিৎ দে ভৌমিক ওরফে হিপ্পি। থানায় কোনো পরিচিত মানুষকে আসতে দেখলেই লকআপের ভিতর থেকে তাঁকে ডাকেন। শুধুমাত্র একবার কথা বলার আশায়। কেউ কেউ তাঁর ডাক শুনতে পেয়ে লকআপের দিকে তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ আবার মুচকি হেসে চলে যান। অনেকে আবার পরিচিত নেতা হিপ্পির ডাক শুনতে পেলেও না শোনার ভান করে এড়িয়ে যান।
কোতোয়ালি থানার এক অফিসার জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময়টুকু ছাড়া হিপ্পির সঙ্গে কেউই সেভাবে কথা বলেন না। বরং উনিই কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা চেষ্টা করেন। কখনও কোনো পরিচিত মানুষ দেখলে তাঁকে ডেকেও কথা বলার চেষ্টা করেন।
পুলিশ সূত্রেই জানা গিয়েছে, হিপ্পির সঙ্গে রয়েছে দুটো গল্পের বই। কখনও তাঁকে গল্পের বইতে চোখ বোলাতে দেখা যায়। আবার কখনও বই বন্ধ করে লকআপের লোহার জালির দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকেন। লকআপে অন্য কোনো আসামি নিয়ে আসা হলে, তার সঙ্গেও গল্পে মশগুল হতে দেখা যায় তোলাবাজি ও অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা হিপ্পিকে।
প্রসঙ্গত রাজ্যে পালাবদলের পরই শহরের এক ব্যবসায়ী হিপ্পির বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। চাকরির দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা তিনি নিয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ ছিল। টাকা নিয়েও চাকরি দিতে না পারা এবং চাকরিপ্রার্থী টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ দায়ের হয় তৃণমূলের প্রাক্তন এই জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে। এই মামলায় হিপ্পির সঙ্গে রয়েছে আরও পাঁচজনের নাম। তাঁরা এখনও পুলিশের খাতায় পলাতক। তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানান, বাকি পাঁচজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। খুব শীঘ্রই তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। তবে তাঁরা এই রাজ্যেই কোথাও গা ঢাকা দিয়েছেন, নাকি ভিনরাজ্যে পালিয়ে গিয়েছেন, তা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। • ফাইল চিত্র।a