Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ইরান যুদ্ধের মাঝেই ‘ডুমসডে’ মিসাইল পরীক্ষা আমেরিকার, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে হানা

এবার কি পরমাণু অস্ত্রের দামামা ইরান যুদ্ধে? সৌজন্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। ২৪ ঘণ্টা আগেই ভারত মহাসাগরে টর্পেডো ছুড়ে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে মার্কিন নৌসেনার সাবমেরিন

ইরান যুদ্ধের মাঝেই ‘ডুমসডে’ মিসাইল পরীক্ষা আমেরিকার, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে হানা
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০

ওয়াশিংটন ও বাকু: এবার কি পরমাণু অস্ত্রের দামামা ইরান যুদ্ধে? সৌজন্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। ২৪ ঘণ্টা আগেই ভারত মহাসাগরে টর্পেডো ছুড়ে ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে মার্কিন নৌসেনার সাবমেরিন, যা কি না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম। তারপরই পেন্টাগন প্রকাশ করেছে ‘মিনিটম্যান ৩’ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষার ভিডিও। একসঙ্গে তিনটি পরমাণু অস্ত্র (ওয়ারহেড) বহনে সক্ষম এই মারণাস্ত্রের আর এক নাম ‘ডুমসডে মিসাইল’। কারণ, এটি হিরোশিমায় আঘাত হানা ‘লিটল বয়ে’র থেকে প্রায় ২০ গুণ শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা বইতে পারে। মিসাইলটির পাল্লা বা রেঞ্জ ১৩ হাজার কিলোমিটার। অর্থাৎ বিশ্বের যে-কোনো প্রান্তেই এটি নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, একবার এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে গোটা বিশ্বে বিপুল তেজস্ক্রিয়তা ছড়াবে। অর্থাৎ সেটাই হবে পৃথিবীর শেষ দিন বা ‘ডুমসডে’। আর তাই আমেকিার এই মিসাইল পরীক্ষার পর বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মার্কিন এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস সেন্টার থেকে মিনিটম্যান-৩ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। কয়েক হাজার মাইল দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে সঠিক নিশানায় আঘাত করেছে সেটি। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কোনো যোগ নেই বলে দাবি আমেরিকার।

Advertisement

‘ডুমসডে মিসাইল’ নিয়ে জল্পনার মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে পশ্চিম এশিয়ায়। এদিন ড্রোন হামলা হয়েছে আজারবাইজানের স্বশাসিত প্রদেশ নাখচিভানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। জখম হয়েছেন অন্তত ২ জন। যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তেহরান। উপবিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘাড়িবাবাড়ির দাবি, শুধুমাত্র শত্রু দেশের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হয়েছে। তবে আমেরিকা-ইজরায়েলের লাগাতার আক্রমণে ইরানের অবস্থা ক্রমেই শোচনীয়। বৃহস্পতিবার তেহরানজুড়ে লাগাতার শোনা গিয়েছে বিস্ফোরণের শব্দ। এপর্যন্ত ১২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে সেদেশে। এদিনও ইরানের রাজধানীর দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে পানান্দ শহরের দু’টি স্কুলে আছড়ে পড়েছে মার্কিন ও ইজরায়েলি মিসাইল। আন্তর্জাতিক ফুটবল স্টেডিয়াম আজাদিও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পালটা কুয়েত, বাহরিন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ২০টি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে তেহরান। নিশানা করা হয়েছে একটি মার্কিন তেল ট্যাঙ্কারকেও। পড়শি দেশ ইরাকের একাধিক কুর্দিশ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও মিসাইল-ড্রোন হামলা চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রক্ত দেখতে চেয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ ধর্মীয় নেতা।

সম্পর্কিত সংবাদ