


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ব্যাংকে কেউ ঋণের আবেদন করলে তাকে বিমা কেনার জন্য আবেদন করা হয় কেন? সেই গ্রাহক নিজের বাড়ি, সোনার গয়না, কোনো স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে কিংবা দেখিয়ে ঋণের আবেদন করছে। তার উপর আবার তাঁকে বিমাও নিতে হবে? একইভাবে ব্যাংকে ডিপোজিট করতে আসা গ্রাহকদেরও নানাবিধ অন্য ইনভেস্টমেন্টের কথা বলা হয়। জোর করা হয় ওইসব প্রোডাক্ট কিনতে। এসব কি ব্যাংকের কাজ? ব্যাংকে ব্যবসা করতেই হবে। বাণিজ্য বাড়াতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, কোর পরিষেবাকে ভুলে যেতে হবে। এই কড়া বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেটের পর রিজার্ভ ব্যাংক বোর্ডের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের সামনে বাজেট সম্পর্কে জানানো দীর্ঘদিনের রীতি। রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সহ বোর্ড সদস্যদের সামনেই ব্যাংকিং সেক্টরকে এই কড়া বার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, কোর ব্যাংকিংয়েরএর লক্ষ্য হল, ডিপোজিট জমা নেওয়া, ডিপোজিট বাড়ানোর চেষ্টা করা, সেই অনুপাতে ঋণ প্রদান করা, সাধারণ গ্রাহক প্রতিদিন ব্যাংকে যেসব কারণে আসে, যে সমস্যা জানাতে চায়, সেগুলিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে যেন শুধুই তাদের উপর নিজের বাণিজ্যের লক্ষ্য চাপিয়ে না দেয়। এভাবে ব্যাংকিং সেক্টরকে মানুষের থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া চলে না। উচিত হল, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, সেভিংস অ্যাকাউন্টের পরিষেবা সঠিক রয়েছে কি না, সেটি দেখা। যারা নিজেদের সম্পদ জমা রেখে ঋণ নিচ্ছে, তারা আবার নতুন করে কেন বিমা কিনবে? অর্থমন্ত্রী এদিন সোনা ও রূপোর দাম নিয়ে আশ্বাসবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে সোনা-রুপোর দামবৃদ্ধি তেমন আশঙ্কাজনক কিছু প্রবণতা দেখাচ্ছে না। আসল কারণ হল, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলিও সোনা-রুপো কিনছে। তাই চাহিদা আচমকা বেড়েছে। অর্থমন্ত্রীর ধারণা, এই চাহিদা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির সোনা ক্রয় শিখরে পৌঁছেছে। তাই আশা করা যায় এবার স্তিমিত হবে। তাঁর মতে এটা মরশুমী বৃদ্ধি। স্থায়ী নয়।