নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান থেকে কুসুমগ্রাম যাওয়ার রাস্তা ধরে দ্রুতগতিতে ছুটছে যাত্রীবাহী বাস। গতি দেখে যাত্রীরা আতঙ্কিত ছিলেন। কেউ কেউ ধীরগতিতে চালানোর জন্য চালককে অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু তিনি সেসব কানেই নিলেন না। যাত্রীদের অনেকেরই মন কু ডাকতে থাকে। তাঁরা যেমনটা আশঙ্কা করেছিলেন ঠিক তেমনই হলে। দেওয়ানদিঘি থানার ভাণ্ডারডিহির কাছে বাস জমিতে নেমে পড়ল। সিসি ক্যামেরায় সেই ছবি ধরা পড়েছে। দ্রুতগতিতে এসে বাসটি উল্টে পড়ার ছবি দেখে অনেকেই আঁতকে উঠেছেন। বাসে প্রায় ৪০জন যাত্রী ছিলেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০জন জখম হয়েছেন। তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। বাসের অন্যান্য যাত্রীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁরা বলেন, বর্ধমান থেকে বাস দেরিতে ছাড়ে। কুসুমগ্রাম বা অন্যত্র পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সময়ে পৌঁছাতে না পারলে জরিমানা দিতে হয়। চালকরা যাত্রী তোলার জন্য দীর্ঘক্ষণ বর্ধমানে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর তার গতি বাড়ে। সেই কারণেই হামেশাই দুর্ঘটনা হচ্ছে।
Advertisement
বাসযাত্রী সৌম্য দাস বলেন, বাসের গতি অনেক বেশি ছিল। সেই কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি। রাস্তা থেকে জমিতে নেমে যায়। বড়সড় দুর্ঘটনা হতে পারত। বরাতজোরে যাত্রীরা বেঁচে গিয়েছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। চালকরা যাতে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে তা দেখার জন্য বলা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের কয়েক দিন আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। নবাবহাট, আলিশায় ক্যাম্প করা হয়েছিল। সেখানেও চালকদের সতর্ক করা হয়। তারপরও তারা বেপরোয়াভাবে বাস চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। যাত্রীরা বলেন, এদিন বাসটি জমিতে নেমে উল্টে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিস এসে উদ্ধার কাজে হাত লাগায়। পুলিস জানিয়েছে, বাসটি আটক করা হয়েছে। কী কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



