সংবাদদাতা, ডোমকল: চলছে এসআইআর-এর শুনানি। নির্দিষ্ট দিনে শুনানি ক্যাম্পে হাজির হতে হাতে নথি নিয়েই যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আর সেই কারণেই নথি সংগ্রহ করতে রোজই ব্যাপক ভিড় হচ্ছে ডোমকল পুরসভায়। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুরসভার জন্ম-মৃত্যু রেজিস্ট্রার দপ্তরের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
শুধু জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রই নয়, এসআইআর পর্বে বংশতালিকা সংগ্রহ নিয়েও বেড়েছে দৌড়-ঝাঁপ। এসআইআর শুনানিতে গ্রহণযোগ্য ১৩টি নথির মধ্যে অন্যতম হল জন্মের শংসাপত্র। সেই শংসাপত্র সংগ্রহ করতেই এখন সবচেয়ে বেশি ভিড় জমছে পুরসভায়। যাঁরা আগে জন্মের সনদ নেননি, কিংবা যাঁদের কাছে থাকা পুরানো হাতে লেখা জন্মসনদ ডিজিটাল করাতে চাইছেন- তাঁদের সবাইকেই এখন পুরসভায় ছুটতে হচ্ছে। প্রান্তিক এলাকায় একসময় বহু শিশুর জন্ম হত বাড়িতেই। তখন জন্ম শংসাপত্রের তেমন গুরুত্ব ছিল না। কিন্তু এসআইআর আবহে জন্ম সনদ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। ফলে পুরানো হাতে লেখা জন্মসনদ ডিজিটাল করাতে গিয়েও লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নাগরিকদের। আবার অনেকের ক্ষেত্রে একেবারেই জন্মসনদ নেই। সেসব ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রয়োজন হচ্ছে নোটারি, একজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল করা হলফনামা। যাঁরা এতদিন জন্মসনদ নেননি, তাঁদের ওই হলফনামার মাধ্যমে কারণ জানাতে হচ্ছে। এরপর সেই এফিডেভিটের কপি নিয়ে আবার পুরসভায় ছুটতে হচ্ছে।
পুরসভা সূত্রে খবর, জানুয়ারির শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ডোমকল পুরসভা থেকেই প্রায় ৩০০টির কাছাকাছি ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিলে বার্থ সার্টিফিকেট নেওয়ার সংখ্যাও প্রায় ৩০০-র কাছাকাছি। একইভাবে পুরসভায় ভিড় জমছে বংশতালিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০টি পর্যন্ত বংশতালিকা দিতে হচ্ছে উপভোক্তাদের। এই বিপুল সংখ্যক নথি দিতে গিয়ে পুরানো রেকর্ড ঘেঁটে দেখতেই কর্মীদের কার্যত নাকানি-চোবানি খেতে হচ্ছে। এসআইআর-এর শুনানি পর্বকে ঘিরে নথি সংগ্রহের এই হিড়িক এখন ডোমকল পুরসভার দৈনন্দিন চিত্র হয়ে উঠেছে।
সুদীপ মণ্ডল নামে এক যুবক বলেন, তখন এত নথি লাগবে তা জানতাম না। আমার অভিভাবকরাও তখন ততটা গুরুত্ব দেননি। এখন এসআইআর পর্বে পাড়ার অনেককেই নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। শুনলাম সেখানে জন্মের শংসাপত্রের নথি গ্রাহ্য হচ্ছে। তাই ডিলে বার্থ সার্টিফিকেটের আবেদন করেছি পুরসভায়।
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, প্রতিদিন অনেক মানুষ নানান নথি নিতে ভিড় করছেন। এতদিন জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র তো ছিলই , সপ্তাহ কয়েক ধরে বংশতালিকা নেওয়ার জন্যও অনেকেই ভিড় করছেন পুরসভায়। আমরাও সমস্ত কিছু ভেরিফাই করার পর তাঁদের হাতে নথি তুলে দিচ্ছি।