নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূলী সাংসদদের এনসিপিআই পার্টিতে যোগদান এবং তাদের বিজেপিতে মিশে যাওয়া সংক্রান্ত চর্চায় শনিবার সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ হল। চরম বিভ্রান্তিরও সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের অন্যতম সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিআইয়ের যথাক্রমে লোকসভার দলনেতা ও মুখ্য সচেতক হিসাবে রবিবার সর্বদলীয় বৈঠকে ডেকেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবারই সুদীপবাবুকে এই মর্মে চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কাল, সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে আজ, রবিবার বরাবরের মতোই এই সর্বদল বৈঠকের আয়োজন করেছে সরকার। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সংসদীয় দল হিসাবে এনসিপিআইকে কার্যত স্বীকৃতি দিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা? আর এপ্রশ্নেই বৃদ্ধি পেয়েছে বিভ্রান্তি।
কারণ কিরেন রিজিজুর পাঠানো চিঠিতে দল হিসাবে এনসিপিআইয়ের উল্লেখ এবং তার লোকসভার দলনেতা ও মুখ্য সচেতক হিসাবে যথাক্রমে সুদীপ-কাকলির নাম রয়েছে ঠিকই। কিন্তু অন্তত শনিবার রাত পর্যন্ত লোকসভার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি) সাংসদ হিসাবেই সুদীপ-কাকলি সহ প্রত্যেক বিদ্রোহী এমপির উল্লেখ রয়েছে। ওয়েবসাইটে শনিবার রাত পর্যন্ত তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ২৮ জন বলেই উল্লেখ করা রয়েছে। এখানেই শেষ নয়। আরও লক্ষণীয় বিষয় হল যে, এদিন রাত পর্যন্ত লোকসভার ওয়েবসাইটে পার্টি হিসাবে এনসিপিআইয়ের উল্লেখমাত্র নেই। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সুদীপবাবুকে এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু যে চিঠি পাঠিয়েছেন, সেখানে তাঁকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে যে, ‘আপনি সহ ১৯ জন সাংসদ এনসিপিআইয়ে যোগ দিয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই দলের স্বীকৃতির জন্য লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। বিষয়টি তাঁর বিবেচনাধীন রয়েছে।’ এই ‘বিবেচনাধীন’ শব্দটিকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
রাজনীতির কারবারিদের বড়ো অংশ প্রশ্ন তুলছে, যদি সংসদীয় পার্টি হিসাবে এনসিপিআই শেষমেশ স্বীকৃতি পায়ও, তাহলেও কি আগামী দিনে তা বিজেপির সঙ্গেই মিশে যাবে? জল্পনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে শনিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সুদীপবাবু। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে তাঁর সঙ্গে ঘণ্টাখানেক কথা হয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিজেপি সূত্রেও দাবি করা হয়েছে যে, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের গেরুয়া শিবিরে মিশে যাওয়া নিয়ে দলীয় স্তরেও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে এব্যাপারে বিদ্রোহী এমপিরা বৈঠকও করতে পারেন। বিজেপির অন্দরের খবর, এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ বিজেপিতে মিশে গেলে লোকসভায় বঙ্গ বিজেপির নেতাও পাল্টে যাবে। বর্তমানে ওই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন খগেন মুর্মু। দলের অভ্যন্তরে যাতে এ নিয়ে কোনো অসন্তোষ দানা না বাঁধে তার জন্য আগাম আলোচনা করছে বিজেপি।