


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি লোকসভা ও রাজ্যসভার প্রাইভেট মেম্বার্স বিল কি ধীরে ধীরে বন্ধ করে দেওয়া হবে? না হলে কেনই বা এই বিলের প্রথাকে এতটা গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে? বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিরোধী শিবিরে। বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পরই লোকসভার কংগ্রেস এমপি শশী থারুর বলেন, ‘গত জুলাই মাসে লোকসভায় শেষবার কোনও প্রাইভেট মেম্বার্স বিল পেশ হয়েছে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত কোনও প্রাইভেট মেম্বার্স বিল পেশ হয়নি। আলোচনাও হয়নি। ন’মাস ধরে লোকসভায় প্রাইভেট মেম্বার্স বিল সেশনটাই হচ্ছে না। এটা রেকর্ড।’ শুক্রবার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে সেই একই প্রবণতার পুনরাবৃত্তি হল। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে লোকসভা মুলতুবি হয়ে যায়। অথচ প্রাইভেট মেম্বার্স বিলের জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছিল দুপুর সাড়ে তিনটে। সংসদে সরকার ছাড়াও সাধারণ এমপিদের নিজেদের মতামত জানানো, কোনও প্রস্তাব রাখা বা ইস্যু উত্থাপন করে আলোচনা শুরু করার অধিকার আছে। সেই গণতন্ত্রের সুযোগ দেয় প্রাইভেট মেম্বার্স বিল। সেই প্রথা বন্ধ করে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। রাজ্যসভার তৃণমূল এমপি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে, প্রাইভেট মেম্বার্স বিলের পরিসর ক্রমেই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রের ঠিক যে পরিসরগুলি ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত, সেগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবেই যেন সংকুচিত করে দিচ্ছে মোদি সরকার। গণতন্ত্রের পরিসর কমছে।’ এদিনই রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনকার বলেছেন, ‘গোটা বাজেট অধিবেশনে রাজ্যসভায় ৪৯টি প্রাইভেট মেম্বার্স বিল পেশ হয়েছে। সেটা যথেষ্ট ইতিবাচক।’