Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে সঠিক সময়ে আসেন না চিকিৎসকরা, ক্ষোভ

ঝাঁ-চকচকে চারতলা লিফট যুক্ত শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে সঠিক সময়ে আসেন না চিকিৎসকরা, ক্ষোভ
  • ১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালনা: ঝাঁ-চকচকে চারতলা লিফট যুক্ত শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রোগী ও রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকদের সময় মতো পাওয়া যায় না। কোনো কোনো চিকিৎসক সর্বসাকুল্যে সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন ডিউটি করেন। কথায় কথায় রোগীদের অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে। ফলে দিনকে দিন হাসপাতালে উপর এলাকার মানুষ ভরসা হারাচ্ছেন। কমছে রোগীর সংখ্যা। রোগীরা ছুটছেন ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে কালনা সুপার স্পেশালিটি ও নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমানে নতুন রোস্টারের মধ্যে দিয়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। কিছু সাফাই কর্মী কম রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকের কাছে বিষয়টি  জানানো হয়েছে।

Advertisement

নাদনঘাট থানা এলাকায় রয়েছে ৩০ বেডের শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতাল। পূর্বতন সরকারের আমলে হাসপাতাল চত্বরে গড়ে ওঠে ঝা-চকচকে ১০০ বেডের আধুনিক পরিকাঠামো যুক্ত চারতলা ভবন। ভোটের আগে তড়িঘড়ি শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসার বিভিন্ন বিভাগকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে নতুন ভবনে। চালু হয়েছে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব। চিকিৎসার ভাল পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের চিকিৎসকদের হাজিরা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও রোগীর পরিজনদের মধ্যে। রোগীর পরিজন থেকে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত হন না। কেউ সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ৩০ বেডের চিকিৎসার জন্য পাঁচজন চিকিৎসক ও ১১জন নার্স রয়েছেন। গত ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরে মাত্র ৮৮জন প্রসূতির ডেলিভারি হয়েছে। ইতিমধ্যে নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ তপাদার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠকে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। চিকিৎসকদের সরকারি নিয়ম মেনে ডিউটি করার বার্তা দেন তিনি। জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগীর আত্মীয় জীবনরাম সর্দার বলেন, আমার রোগীকে ভর্তির সময় কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। নার্সরাই ভর্তি করে নেন। পরে এসে একজন ডাক্তারবাবু দেখেন। দিনে একবার ডাক্তারবাবু দেখেন। তারও কোনো নিদিষ্ট সময় নেই। 
এলাকার বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ তপাদার বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা পরিকাঠামো যথেষ্ট উন্নত। চিকিৎসক পর্যাপ্ত রয়েছে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি। চিকিৎসকদের সরকারি নিয়ম মেনে ডিউটি করতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে নার্স ও চিকিৎসক কোয়ার্টারগুলি সংস্কারের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ