সংবাদদাতা, বনগাঁ: স্ত্রীকে গলার নলি কেটে নৃশংসভাবে খুনের দায়ে চিকিৎসক স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বনগাঁ আদালত। বৃহস্পতিবার বনগাঁ আদালতের এডিজে ২ কোর্টের বিচারপতি কুমকুম সিনহা এই নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দোষীকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন বছর কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। জরিমানার অর্ধেক টাকা মৃতার পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট। বাগদার মণ্ডপঘাটায় শ্বশুরবাড়িতে পেশায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক রত্নতমা বালা দে কে গলার নলি কেটে খুন করেছিল স্বামী অরিন্দম বালা। সেইসময় তিনি পিজি হাসপাতালের এমডি পাঠরত ছিলেন। তদন্তে জানা যায়, সেই রাতে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে স্ত্রীকে অজ্ঞান করেছিল অরিন্দম। এরপর গলার নলি কেটে তাঁকে খুন করে। পরদিন সকালে বাগদা থানায় গিয়ে নিজেই স্ত্রীকে খুনের কথা স্বীকার করে। মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। এদিন সাজা ঘোষণায় খুশি মৃতার পরিবারের লোকেরা। ২০২১ সাল নাগাদ বাগদার মণ্ডপঘাটার বাসিন্দা অরিন্দম বালার সঙ্গে বিয়ে হয় বারাকপুরের নীলগঞ্জের বাসিন্দা রত্নতমার। অভিযোগ বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পণের দাবিতে রত্নতমার উপর অত্যাচার শুরু হয়েছিল। নানা বিষয়ে স্ত্রীকে সন্দেহ করতে শুরু করে অরিন্দম। বিয়ের ৮ মাস পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন রত্নতমা। ২০২৩ সালে ঘটনার দিন স্ত্রীকে বাগদায় নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছিল অরিন্দম। রাতে বাবা ও ভাইকে খাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে দোতলার ঘরে চলে যায় সে। অভিযোগ, নিজের ঘরে ঘুমন্ত স্ত্রীকে ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে গলার নলি কেটে খুন করে। এই ঘটনায় ১৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এই বিষয়টি নিয়ে মৃতার বাবা রাজীবকুমার দে বলেন, অবশেষে অনেক লড়াই পেরিয়ে মেয়ের খুনের ন্যায়বিচার পেলাম। আমরা খুশি। এনিয়ে সরকারি পক্ষের আইনজীবী সঞ্জয় দাস বলেন, একজন চিকিৎসক মানুষকে বাঁচাতে কাজ করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে চিকিৎসক তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করেছিল। আমরা সবাই সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছিলাম। শেষমেশ সাজা হওয়ায় আমরা খুশি।



