নয়াদিল্লি: ‘একেবারে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ। এটি আমার ও ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপার। আপনারা নাক গলানোর কে? আমি নিজেও একজন ছাত্র ছিলাম। বিক্ষোভ-আন্দোলনে অংশ নিতাম।’ শুক্রবার বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়াকে এই ভাষাতেই ভর্ৎসনা করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
‘ককরোচ’ মন্তব্য ও জেন জি-দের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বিপাকে পড়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সম্প্রতি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করেছিল হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব লিগাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ (নালসার) ইউনিভার্সিটি। কিন্তু এই আমন্ত্রণের তীব্র বিরোধিতা করে আইনের বহু পড়ুয়া। এরপরই বেঁকে বসেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র। চলতি বছরে নালসারের স্নাতকরা কোনও রাজ্য বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হতে পারবেন না। তড়িঘড়ি এই মর্মে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। বিষয়টি সামনে আসতেই বিতর্ক শুরু হয়। প্রতিবাদে সরব হয় ককরোচ জনতা পার্টিও। চাপে পড়ে শেষমেশ সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয় বার কাউন্সিল। তবে বার কাউন্সিলের এহেন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছে, নালসারের পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। দু’সপ্তাহের মধ্যে বার কাউন্সিলের কাছে জবাবি হলফনামা চেয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, এক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে বার কাউন্সিল। পড়ুয়াদের প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। কেউ তাদের থামাতে পারে না। আমরা এটির অনুমতি দেব না।