সংবাদদাতা, লালবাগ: পুলিস বা সীমান্তের বিএসএফের নজর এড়িয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় মাদকদ্রব্য পৌঁছে দিতে পারলেই মিলবে মোটা অঙ্কের বকশিস। রাতারাতি বড়লোক হওয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে পড়েছিল। দিনে দিনমজুরি করলেও রাতে মাদক দ্রব্যের ক্যারিয়ারের কাজ করছিল লালগোলার বরজুমলার বাসিন্দা বছর চব্বিশের যুবক হায়দার আলি। কিন্তু, শেষরক্ষা হল না। মঙ্গলবার গভীর রাতে লালগোলার আমতলায় অভিযান চালিয়ে হেরোইন সহ হায়দারকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার কাছ থেকে ২৬০ গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস হেরোইন কারবারি রাহুল শেখের নাম জানতে পারে। রাতেই রঘুনাথগঞ্জের কাঁটাতলার বাড়ি থেকে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের বুধবার বহরমপুরে মাদক সংক্রান্ত বিশেষ আদালতে তোলা হলে বিচারক ছ’দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ভগবানগোলার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, রঘুনাথগঞ্জের কারবারির কাছে পৌঁছে দিতেই হায়দার নদীয়া জেলা থেকে হেরোইন নিয়ে ট্রেনে চেপে রাতে পীরতলা স্টেশনে নামে। সেখান থেকে হেঁটে আমতলা মোড়ে আসে। তখন তাকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় এক প্যাকেট হেরোইন বাজেয়াপ্ত হয়। হায়দারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক কারবারি রাহুলের নাম জানা যায়। রাহুল মাদক দ্রব্য বাড়িতে মজুত রেখে সুযোগ মতো সীমান্ত এলাকার কারবারিদের বিক্রি করত। বাজেয়াপ্ত হেরোইনের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। মাদক কারবার সংক্রান্ত আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধৃতদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পদ্মাপাড়ের লালগোলা একসময় সাদা মাদক হেরোইনের হাব হিসেবে পরিচিত ছিল। হেরোইন তৈরি এখানকার কুটিরশিল্প হয়ে উঠেছিল। পুলিসের লাগাতার অভিযান ও ধরপাকড়ে মাদক কারবার ও পাচারে অনেকটাই রাশ টানা সম্ভব হয়েছে।



