নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: যত দিন যাচ্ছে, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযুক্ত পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ততই প্রকট হচ্ছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আস্ত শহর বা বিস্তীর্ণ জনবসতি এলাকা কার্যত আবর্জনার পাহাড়ে পরিণত হবে। এই আশঙ্কা যে মোটেও অমূলক নয়, সম্প্রতি তার প্রমাণ মিলেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটি পুরসভায়। নিজস্ব ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকায় গোটা শহরের বেহাল দশা। কলকাতার ধাপার মাঠের ধারণ ক্ষমতা আগেই হারিয়েছে। তারপরও কোনওরকমে সেখানে শুধু কলকাতা নয়, পানিহাটি সহ আরও কয়েকটি এলাকার আবর্জনা সেখানে ফেলার অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই রকম বেহাল অবস্থা দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর লাগোয়া একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের। আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা নেই ওই এলাকায়। নেই কোনও ডাম্পিং গ্রাউন্ডও। ফলে সোনারপুর গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহের কাজও হচ্ছে না কোথাও। শুধুমাত্র বাজারহাট ও রাস্তার ধারে জমে থাকা ময়লা তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্যত্র। কোথাও আবার সেটুকুও হচ্ছে না। পঞ্চায়েতগুলির দাবি, গৃহস্থের আবর্জনার মোট পরিমাণ এত বেশি হবে যে তা ফেলার জন্য স্থায়ী এবং বড় ডাম্পিং গ্রাউন্ড প্রয়োজন। সোনারপুরের গ্রামীণ এলাকায় তা নেই বলেই এখনই বাড়ি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।
Advertisement
কালিকাপুর ১, ২, প্রতাপনগর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই সমস্যা প্রকট। তিনটি পঞ্চায়তই কলকাতা শহর লোগায়া। ফলে খাতায়কলমে গ্রামাঞ্চল হলেও এসব এলাকায় শহরাঞ্চলের সমস্ত বৈশিষ্ট্যই ভরপুর। ঘন জনবসতির কারণে প্রতিদিনের বর্জ্যর পরিমাণও যথেষ্ট। কালিকাপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হতে এখনও সময় লাগবে। একই সমস্যা কালিকাপুর ২এবং প্রতাপনগর পঞ্চায়েতেও। জায়গার অভাবে এই ইউনিট করা যাচ্ছে না সেখানে। তাই আবর্জনা সংগ্রহের কাজ বন্ধ। প্রতাপনগরে আবার ময়লা সংগ্রহ করার গাড়ি পড়ে রয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে তা ব্যবহার করতে পারছেন না সাফাইকর্মীরা। ফলে বাসিন্দারা যত্রতত্র, রাস্তার ধারে, ঝোপেঝাড়ে পুঁটলি করে আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন। এলাকায় দূষণ বাড়ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কবে মিলবে, প্রশ্ন এলাকাবাসীর। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, কালিকাপুর ১ অঞ্চলের কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ইউনিটের সঙ্গে আশপাশের পঞ্চায়েতকে যুক্ত করা হয়েছে। শীঘ্রই ওই ইউনিট চালু হয়ে যাবে। তখন আর বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ করতে সমস্যা হবে না।



