Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দামি হোটেলে থেকে অপারেশন চালাত ব্যান্ডেল গ্যাংয়ের ২ লাস্যময়ী সহ ধৃতরা

দামি হোটেলে থেকে অপারেশন চালাত ব্যান্ডেল গ্যাংয়ের ২ লাস্যময়ী সহ ধৃতরা
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পরনে দামি পোশাক। ‘অবসর’ পেলেই পার্লারে যায়। বাইরে গেলে নামী হোটেল ছাড়া থাকতে পারে না। বাসে বা ট্রেনে যাতায়াতে অভ্যস্ত নয় তারা। চারচাকা গাড়ি চড়েই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঘোরে। পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও তাদের অবাধ যাতায়াত। ব্যান্ডেল গ্যাংয়ের দুই লাস্যময়ীকে জেরা করে পুলিস এমনই তথ্য পেয়েছে। শুক্রবার লালবাজারের গোয়েন্দারা বর্ধমানের ঘোড়দৌড়চটির কাছে দুই লাস্যময়ী সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হুগলির ব্যান্ডেল এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকায় অপরাধীদের একাধিক গ্যাং রয়েছে। চুরি, ছিনতাই, কেপমারি করাই তাদের পেশা। তবে তারা অপরাধ করে সাধারণ অপরাধীদের মতোই। কিন্তু বর্ধমান থেকে ধৃত গ্যাংটির কায়দা সম্পূর্ণ আলাদা। তারা জেলায় গিয়ে হোটেল ভাড়া নেয়। কোনও বেসরকারি সংস্থার কর্মী বলে নিজেদের পরিচয় দেয়। হোটেলে থেকে তারা বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে ঩রেকি করে। তারপরই ‘অপারেশন’ সেরে চম্পট দেয়। কোনও জেলায় তারা বেশিদিন থাকে না। তাদের চালচলন দেখে কারও সন্দেহ হয় না। কিছুদিন আগে তারা কলকাতার বড়বাজারের কাছে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা ছিনতাই করে। থানায় অভিযোগ হওয়ার পরই গোয়েন্দারা তদন্তে নামে। তারা বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্যাংটিকে চিহ্নিত করে। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারে দুষ্কৃতী গ্যাংটি ঝাড়খণ্ডের কাছে রয়েছে। সেখানে কিছুদিন কাটানোর পর তারা পুরুলিয়ায় আসে। সেখান থেকে ব্যান্ডেল ফেরার পথে লালবাজারের গোয়েন্দারা তাদের পাকড়াও করেছে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই লাস্যময়ীর কাজ ছিল বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে রেকি করা। তাদের তথ্য নিয়ে গ্যাংয়ের সদস্যরা অপারেশন চালাত। সম্প্রতি বিভিন্ন জেলায় একাধিক চুরির ঘটনা হয়। বর্ধমান জেলাতেও পরপর কয়েকটি চুরি হয়েছে। কয়েকদিন আগে গলসির একটি ইলেকট্রনিক্স দোকান থেকে কয়েক লক্ষ টাকার সামগ্রী চুরি যায়। বর্ধমান শহরেও কয়েকটি চুরি হয়েছে। তারপরই পুলিস নজরদারি বাড়ায়। কোনও এলাকায় সন্দেহজনকভাবে কাউকে ঘোরাঘুরি করতে দেখলে স্থানীয়দের থানায় জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। বাইরের কোনও গ্যাং অপরাধ করছে কিনা তা পুলিস খতিয়ে দেখছে। 
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, দুষ্কৃতীরা এখন চুরির কৌশল বদল করেছে। বিশেষ করে ব্যান্ডেলের ওই গ্যাংটির অপরাধ করার কৌশল সম্পূর্ণ অন্যরকম। তারা চুরি করতে পারে তা দেখে বোঝার উপায় ছিল না। বর্ধমানে তাদের চারচাকা গাড়িটি আটক করে প্রথমে ধন্দে পড়ে যাই। গাড়িতে থাকা সওয়ারিরা আদৌ চুরি বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত কিনা তা নিয়ে সন্দেহ হয়। যদিও জেরা কর঩তেই তাদের স্বরূপ বেরিয়ে আসে। 
সম্পর্কিত সংবাদ