Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দালাল ধরে বিদেশে ফিরতে গিয়ে ফাঁপরে

দালাল ধরে বিদেশে ফিরতে গিয়ে ফাঁপরে
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
অভিষেক পাল, বহরমপুর:  দালালদের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে কাজে যাচ্ছে জেলার যুবকরা। কিছুদিন কাজ করার পর ফুরিয়ে যাচ্ছে ভিসার মেয়াদ। কিন্তু দেশে আর ফিরতে পারছেন না। তা হলে উপায়? উপায় একটাই—সে দেশে পুলিসের হাতে ধরা পড়া যাওয়া। অতঃপর, বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জেলাযাত্রা সুনিশ্চিত করার মরিয়া চেষ্টা চলে সবার। একবার অন্তত ধরা পড়লে ঘরে ফেরা সহজ। স
Advertisement
মুর্শিদাবাদ জেলায় তেমন বড় কোনও শিল্প নেই। কাজের সন্ধানে বহু যুবক পরিযায়ী হয়ে ভিন দেশে চলে চান। রুজিরুটির টানে দক্ষ ও অদক্ষ সব ধরনের শ্রমিকরা পাড়ি দিচ্ছেন সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, দুবাই ও মালয়েশিয়া সহ অন্যান্য দেশে। যেতে গেলে আবশ্যিক পাসপোর্ট ও ভিসা। কোনও শ্রমিকের বয়স ১৮ হলেও আধার জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স ভাঁড়িয়ে ২১ বছর করে নেওয়া হচ্ছে। তারপর বয়সের সেই প্রমাণপত্র দেখিয়ে পাসপোর্ট বের করছে। ভিসার ক্ষেত্রে এই জেলার বেশিরভাগ শ্রমিক বিদেশে যাচ্ছে ৯০ দিনের টুরিষ্ট ভিসায়। বিদেশে গিয়ে তিনি থেকে যাচ্ছেন কমপক্ষে তিন থেকে সাত বছর। দেশে ফেরার সময় ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন শ্রমিকরা। 
এদিকে, দালালদের মাধ্যমে ভিসা করার সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেক প্রলোভন দেখানো হয়। বলা হয়, দৈনিক মাত্র আট ঘণ্টা কাজ করে মাসে ২০০০ রিয়াল বেতন মিলবে। সেইসঙ্গে খাওয়া থাকা ফ্রি। এই শোনার পর কেউ জমি আবার কেউ সোনার গয়না বিক্রি করে দালাল দের হাতে লাখ খানিক টাকা গুঁজে দিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন বিদেশে। সেখানে গিয়ে জানতে পারছেন, কোম্পানির চুক্তিভিত্তিক কাজে বেতন মিলবে মাত্র ৭০০ রিয়াল। ভারতীয় মুদ্রায় ১৬ হাজারের কিছু বেশি। কাজ করতে হবে দৈনিক ১২ ঘন্টা। রাস্তা, হাসপাতাল, মল, বাজার সাফাইয়ের কাজ। দালালদের টোপ আর বাস্তবের সাথে মিল না থাকায় তাঁরা সেখানে কাজ করতে পারছেন না। তাই অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। 
এদিকে, মিডলম্যান কোম্পানির এজেন্টরা অন্যরকম পন্থা অবলম্বন করে। তারা আগেভাগে পরিযায়ী শ্রমিককে দিয়ে বিভিন্ন কাগজে সই করে রাখছে। যখনই তিনি কাজ না করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন তাঁর নামে থানায় কেস করে রাখছে ওই কোম্পানি। কেস খাওয়া এবং পরিচয় পত্র না পাওয়ার ফাঁদে পড়ে পরিযায়ী শ্রমিকের জীবন হচ্ছে অতিষ্ঠ। যেমন, বহরমপুরের হালসানাপাড়ার বদর আলি শেখ। সৌদির একটি কোম্পানি বেতন কম দেওয়ার ফলে তিনি কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার আশায় সৌদি পুলিসের কাছে তিনি ধরা দেন। ভেবেছিলেন, পুলিসের কাছে ধরা দিলেই অন্য সব পরিযায়ী শ্রমিকদের মতো তিনিও বাড়ি ফিরতে পারবেন। কিন্তু প্রায় ৮ মাস জেলবন্দি থাকতে হয় তাঁকে। অবশেষে কয়েকদিন আগে বহরমপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তৎপরতায় এবং হাই কমিশনের হস্তক্ষেপে আলি বাড়ি ফেরেন। ওই সংস্থার কর্ণধার মতিউর রহমান বলেন, বহু শ্রমিক এখন বিদেশে গিয়ে পুলিসের কাছে ধরা দিচ্ছেন। ভাবছেন হাই কমিশনকে জানালে, তাঁদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনবে। এইভাবে গত কয়েকবছরে শতাধিক পরিযায়ী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। এখনও অনেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না। তাঁরা বুদ্ধি করে পুলিশের কাছে ধরা দিচ্ছেন। অনেক সময় পুলিস কেস না নিলে তখন কোনও অপরাধ করে জেলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই প্রবণতা অত্যন্ত মারাত্মক। জানা গিয়েছে, কান্দি থানার ভবানীপুরের বাসিন্দা সাদিকুল শেখকেও কোম্পানি বেতন কম দিচ্ছিল। তিনি ভেবেছিলেন কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরবেন।  সেই মতো পুলিসের হাতে ধরা দেন। কিন্তু  চার মাস কোম্পানিতে কাজ না করার জেরে তাঁর নামে সৌদির ওই কোম্পানি ২৪ হাজার রিয়ালের কেস দিয়েছে। সাদিকুল এখনও বাড়ি ফিরতে পারে নি।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ