Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্তা বাঙালি অধ্যাপককে, ইস্তফা

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্তা বাঙালি অধ্যাপককে, ইস্তফা
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সাম্মানিক পদ ‘রবীন্দ্র চেয়ারে’র অবলুপ্তি নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে চরম বিতর্ক হয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফের বাংলা ও বাঙালি বিতর্ক দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এবার ওই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হলেন আর্টস ফ্যাকাল্টির ডিন অমিতাভ চক্রবর্তী। সোমবার ওই ঘটনার পর চাপের মুখে ইস্তফা দিতেও বাধ্য হন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক। যদিও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাঁর ইস্তফাপত্র গৃহীত হয়নি বলেই জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডঃ বিকাশ গুপ্তা। অমিতাভবাবুকে শারীরিকভাবে নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সভাপতি কংগ্রেসের রৌনক খেতরি এবং কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে মঙ্গলবার অভিযুক্ত ওই ছাত্রনেতা দাবি করেছেন যে, অধ্যাপক চক্রবর্তীকে কোনওরকম শারীরিক নিগ্রহ তাঁরা করেননি। অমিতাভবাবু ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। 
Advertisement
রৌনক বলেন, ওই অধ্যাপক মদ্যপান করে কলেজে এসেছিলেন। দেরিতে আসায় ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারেননি। তাঁরা চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। অমিতাভ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সোমবার যা ঘটেছে, তা পড়ুয়াদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। ঘটনার একটি ভিডিও রৌনক খেতরি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে যে, ওই অধ্যাপকের হাত থেকে ফোন একপ্রকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চরম উদ্ধত ভঙ্গিতে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে অমিতাভবাবুকে উদ্দেশ করে। একজন ছাত্রনেতা কীভাবে তাঁর অধ্যাপককে লক্ষ্য করে ওই ভাষা ব্যবহার করতে পারেন, সেই প্রশ্ন তুলছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহল। অমিতাভবাবুর বিরুদ্ধে ম্যদপানের অভিযোগও পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রেজিস্ট্রার ডঃ গুপ্তা ‘বর্তমান’কে বলেন, বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের দাবি মেনে আমরা অমিতাভ চক্রবর্তীর শারীরিক পরীক্ষাও করিয়েছি। তিনি মদ্যপান করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসেছিলেন, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 
কী ঘটেছিল সোমবার? বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইলেকটিভ এগজামের প্রথম সেমেস্টারের প্রথম পরীক্ষা ছিল। কিন্তু সময়মতো এসে পৌঁছননি অধ্যাপক চক্রবর্তী। তাঁকে ফোন করে ডেকে নিয়ে আসতে হয়। পরীক্ষা শুরু হতে অনেক দেরি হয়। অমিতাভবাবু এসে পৌঁছতেই তাঁকে ঘিরে ঘরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ছাত্রছাত্রীরা। সেই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন রৌনক। সঙ্গে ছিলেন আর্টস ফ্যাকাল্টির কয়েকজন শিক্ষকও। অমিতাভবাবুকে তাঁরা পদত্যাগ করার জন্য ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। এদিন ওই অধ্যাপক ‘বর্তমান’কে জানিয়েছেন, যে ভাষায় আমার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। ওই পরীক্ষার নোডাল অফিসার আমি ছিলাম না। অন্য পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। খবর পেয়ে যখন এসে পৌঁছই, তখন আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ