নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিজেপি’র একসময়ের দাপুটে ‘স্বাস্থ্যনেতা’ ইন্দ্রজিৎ সিনহা ওরফে বুলেট তারাপীঠে ভিক্ষা করছিলেন। তাঁর শরীরে রোগ দানা বেঁধেছে। দলে গুরুত্ব নেই। তাই তিনি তারাপীঠ শ্মশানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই খবর ‘বর্তমান’ পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর বিজেপি নেতারা তাঁর পাশে দাঁড়াতে বুলেট গতিতে ছুটে আসেন। কে তাঁর চিকিৎসার ভার নেবেন তা নিয়ে বিজেপি নেতাদের মধ্যে কার্যত ইগোর লড়াই শুরু হয়ে যায়। অবশেষে বুলেটকে উদ্ধার করা গিয়েছে। কিন্তু দলের অনেকেরই দাবি, বহু পুরনো কর্মী অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন। সংগঠনের কাজ করতে গিয়ে তাঁরা নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করেছেন। দলে বিধায়ক এবং সাংসদের সংখ্যা বাড়তেই তাঁদের ব্রাত করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি’র আদি নেতা হিসেবে পরিচিত বর্ধমানের কেশব কোনার। তিনি বলেন, বাম জমানায় দলের ঝাণ্ডা ধরতে অনেকে ভয় পেত। সেই সময় আমরা সংগঠন করেছি। এখন দল মনে রাখেনি। দলের নেতারা লোক পাঠিয়ে আমার উপর আক্রমণ করেছে। বিজেপি বর্ধমান জেলার প্রাক্তন সভাপতি নরেশ কোনার বলেন, বুলেটের মতোই বহু কর্মী অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন। দলের উচিত তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।
Advertisement
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বুলেটকে তারাপীঠ শ্মশান থেকে বিরোধী দলনেতার অনুগামীরা উদ্ধার করে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি নেতাদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য গোষ্ঠীর লোকজনরা বুলেটের পাশে দাঁড়ানোয় রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের প্রশংসা করেন। তাঁদের দাবি, বুলেটের খবর পাওয়ার পর রাজ্য সভাপতি তাঁর কাছে দলের নেতাদের পাঠান। দলের এক নেতা বলেন, বুলেটের বিষয়টি বতর্মান পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর নেতাদের টনক নড়ে। কিন্তু তারমতো আরও অনেক পুরনো নেতা এবং কর্মীদের কথা দল মনে রাখেনি। অভিমানে তাঁদের অনেকে দল ছেড়েছেন। কেউ কেউ আবার নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানসহ অন্যান্য জেলাগুলিতেও একই ছবি। একসময় আসানসোল বিজেপির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত ছিল। এই জেলায় দুই প্রবীণ নেতার হাত ধরে বিজেপির সংগঠন এগিয়ে যেতে থাকে। তাঁদের মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এমনকী, এক নব্য নেতা তাঁদের একজনকে হেনস্তা করেছেন। আদি নেতৃত্বর দাবি, পুরনো নেতা এবং কর্মীদের মধ্যে সংগঠনের প্রতি ভালবাসা ছিল। কিন্তু নব্যদের মধ্যে সেটা নেই। তাঁদের অনেকে কিছু পাওয়ার জন্য এসেছেন। তাঁদের দাপটে আদি নেতারা কোণঠাসা হয়ে গিয়েছেন। সেই কারণেই বুলেটের মতো নেতাদের তারাপীঠে গিয়ে ভিক্ষা করতে হয়। তিনদিন আগে তারাপীঠ শশ্মান থেকে ফোনে বলেন, বিজেপির স্বাস্থ্যসেল নিজের হাতে তৈরি করেছিলাম। জখম বা অসুস্থ বিজেপি কর্মীদের দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করতাম। পরে দল আর আমাকে মনে রাখেনি।



