Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাক্তার বনাম ডাক্তার লড়াই, ইস্যু সেই থ্রেট কালচার, বিক্ষোভে ফের উত্তাল বর্ধমান মেডিক্যাল

ডাক্তার বনাম ডাক্তার লড়াই, ইস্যু সেই থ্রেট কালচার, বিক্ষোভে ফের উত্তাল বর্ধমান মেডিক্যাল
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বুধবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তারদের দু’টি গোষ্ঠী ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। দু’পক্ষই অধ্যক্ষের কাছে আলাদাভাবে আবেদনপত্র জমা করে। মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত অভয়া কাণ্ডের সময় থেকেই। সেইসময় জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ উত্তরবঙ্গ লবির বিরুদ্ধে ‘থ্রেট কালচার’ চালানোর অভিযোগ করে। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গ লবির কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তারের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। তাঁরা কলেজে ঢুকতে পারবেন না বলে জানানো হয়। এখন তাঁরা ক্লাস করলেও হস্টেলে ঢুকতে পারেন না। তাঁদের হস্টেলে ঢোকার ছাড়পত্র দিতে হবে বলে দাবি ওঠে। অন্য গোষ্ঠী দাবি করে, মাঝে বেশ কিছুদিন কলেজের পরিস্থিতি ঠিক ছিল। এখন আবার নতুন করে ‘থ্রেট কালচার’ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। ওই জুনিয়র ডাক্তারদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে আবার কলেজের পরিবেশ নষ্ট হবে। 
Advertisement
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা যা নির্দেশ দেবেন সেইমতো কাজ হবে। উত্তরবঙ্গ লবির এক চিকিৎসক বলেন, কর্তৃপক্ষ সেইসময় শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তাঁরা অভিযোগ তদন্ত করে দেখে পদক্ষেপ নেননি। এতদিন পরও তাঁদেরকে হস্টেলে না ঢুকতে দেওয়ার কারণ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের কঠোর শাস্তি দেওয়া দরকার ছিল। সেটা হয় না। অন্য পক্ষের চিকিৎসক মহম্মদ সাগির আলি বলেন, পুরো বিষয়টি বিচারাধীন। অধ্যক্ষ চাইলে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তাঁরা সক্রিয় হলে কলেজে আবার দুর্নীতি ফিরে আসবে। পরীক্ষায় আবার টোকাটুকি শুরু হবে। পরীক্ষায় এখন স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও চাপে পরে যেন সিদ্ধান্ত বদল না করে তা দেখার জন্য বলা হয়েছে। যারা থ্রেট কালচারে অভিযুক্ত তারা ক্লাস করছে। তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু ওরা হস্টেলে ফিরলে আবার থ্রেট কালচার শুরু করবে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এদিন সকাল থেকেই দু’পক্ষ কলেজে জমায়েত করে। অভয়া কাণ্ডের সময় আন্দোলনকারীরা অধ্যক্ষের ঘরের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। বিরোধী পক্ষের চিকিৎসকরা অধ্যক্ষর রুমের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। পুলিস দু’পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে তখনকার মতো পরিস্থিতি সামাল দেয়। পরে বিরোধী পক্ষের আরও বেশ কিছু চিকিৎসক সেখানে আসেন। তাঁদের দেখে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এভাবেই দফায় দফায় কলেজ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাতে সাধারণ পড়ুয়াদের অনেকেই ফের সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ