Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দক্ষ রিপোর্টার থেকে সফল সম্পাদক

দক্ষ রিপোর্টার থেকে সফল সম্পাদক
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
স্নেহাশিস সুর: বরুণ সেনগুপ্ত যখন বর্তমান পত্রিকা শুরু করেন তার আগেই তিনি সাংবাদিকতায় খ্যাতি, যশ, অর্থ—এই তিনেরই শীর্ষে পৌঁছেছিলেন। তাঁর আলাদা করে আরেকটা খবরের কাগজ বার করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু অল্প বয়স থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল নিজে একটা কাগজ করবেন। তাই ছাত্র জীবনেই তিনি বর্তমান নামেরই একটা কাগজ করতেন। পরে সেটা নিয়মিত না বেরলেও সেই নামটার স্বত্বাধিকারী থেকে যান বরুণবাবুই। আর সেই নামেই ১৯৮৪ সালে একটা দৈনিক পত্রিকা শুরু করেই হয় তাঁর স্বপ্নপূরণ। 
Advertisement
বরুণবাবু নিজে অত্যন্ত মধ্যবিত্ত ও একান্নবর্তী পরিবারে বড় হয়েছেন এবং অল্প বয়স থেকেই সংসারের অনেক গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। ধাপে ধাপে সাংবাদিকতার শীর্ষে পৌঁছেছেন। পশ্চিমবাংলাতেই শুধু নয় সর্বভারতীয় স্তরেও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর যা পরিচিতি ও যোগাযোগ ছিল, তা অন্য যে কোনও সাংবাদিকের কাছে ঈর্ষণীয়। এই মান্যতা তিনি অর্জন করেছিলেন একটি বাংলা কাগজে কাজ করেই। 
এই অবস্থায় অর্থ, মান, যশ, সাফল্য, প্রতিষ্ঠা এইসব নিয়েই তিনি ভালো থাকতে পারতেন। কিন্তু জীবনকে বাজি ধরে এত বড় একটা ঝুঁকি নিয়ে নতুন খবরের কাগজ করতে নামলেন। আর এই কাজে নিলেন সদ্য স্নাতক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে এমন একঝাঁক ছেলেমেয়েকে। তাদের শিখিয়ে পড়িয়ে, গড়েপিটে সাংবাদিক তৈরি করলেন। সেই সুযোগ না পেলে হয়তো তাদের অনেকেরই আর সাংবাদিক হওয়া হতো না। 
আর নতুন কাগজ করতে  গিয়ে কী অসম্ভব পরিশ্রম করেছেন বরুণবাবু, তা যারা দেখেনি তারা কোনও ধারণা করতে পারবে না। বর্তমান অফিসই  ছিল ওঁর  ঘরবাড়ি। ভোরে উঠে সার্কুলেশনের সঙ্গে মিটিং, তারপর কাগজ পড়া, টেলিফোনে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলা। বেলায় প্রশাসনিক, আর্থিক ও বিজ্ঞাপনের বিষয়ে মিটিং। দুপুরের পর থেকে পূর্ণ মাত্রায় সাংবাদিকতা। কে কী খবর করছে সেটা তদারকি করা, বিভিন্ন পাতার কী হচ্ছে সেটা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসা, সন্ধ্যায় কার  কাছে কী খবর আছে বা ডেস্কে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক কী কী খবর আছে সেটা জানা, নিজের কপি লেখা, রাত ন’টায় প্রথম পাতার ডামি তৈরির মিটিং। সেখানে কচিকাঁচাদেরও কথা বলার অধিকার ছিল। বরুণবাবু প্রতিদিন প্রথম পাতার আলাদা আলাদা ডামি করতেন। ছবি বাছতেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। তারপর রাতে পেজ মেকআপের রুমে গিয়ে দেখা অযথা দেরি হচ্ছে কি না। বরুণবাবু কঠোর পরিশ্রম, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও ঐকান্তিক সংকল্পের জোরে বর্তমান কাগজকে দাঁড় করিয়েছিলেন। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ