Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দখলদারদের সরাতে না দিয়ে ‘পাপ’  করেছি, উপলব্ধি চুঁচুড়ার বিধায়কের

দখলদারদের সরাতে না দিয়ে ‘পাপ’  করেছি, উপলব্ধি চুঁচুড়ার বিধায়কের
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মুখ্যমন্ত্রী জবরদখল উচ্ছেদ করতে বলেছিলেন। কিন্তু আমি ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়ে তা করতে দিইনি তখন। পাপ করেছি। এবার যাবতীয় জবরদখল উচ্ছেদ করতে রাস্তায় নামব। রবিবার দলীয় জনসংযোগ যাত্রায় বেরিয়ে নিজেই ‘পাপ’ ও ‘প্রায়শ্চিত্তের’ কথা তুলেছেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার। জবরদখল নিয়ে বাসিন্দাদের লাগাতার অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। এদিন নলডাঙায় গিয়েছিলেন বিধায়ক। সেখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, জবরদখলের জেরে নলডাঙায় বাড়ি থেকে রাস্তা সর্বত্র জল জমে থাকে। এরপরই দখলদারদের খোঁজে বেরিয়ে পড়েন বিধায়ক।
Advertisement
এদিন অসিত মজুমদার নলডাঙায় জি টি রোড লাগোয়া এক প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মীর বাড়িতে যান। বিধায়কের দাবি, জি টি রোডের ধারে তিন নম্বর ইএসআই গেটের কাছে ওই ব্যক্তি যে বাড়ি করেছেন, সেই জমির একটি অংশ পূর্তদপ্তরের। মূলত, পূর্তদপ্তরের গভীর নিকাশি নালা দখল করে ওই বাড়ির একাংশ ও কয়েকটি দোকান গড়ে উঠেছে। এ নিয়ে ওই প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মীর সঙ্গে বিধায়কের কথা কাটাকাটি হয়। ওই ব্যক্তির দাবি, অনেকেই নিকাশি নালা দখল করে বাড়ি করেছেন। তাই তিনিও করেছেন। এরপর চুঁচুড়া থানায় ফোন করেন বিধায়ক। পরে পুলিস এসে ওই প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তির ছেলে রাজ্য পুলিসের একজন পদস্থ কর্তা। তাই জবরদখল করা জমি নিয়ে পাড়ার কেউই মুখ খোলেননি। এরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নিজের ‘পাপ’ ও ‘প্রায়শ্চিত্তের’ কথা তুলে ধরেন বিধায়ক। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমিই ভুল করে ধীরে চলার নীতি নিয়েছিলাম। পাপ করেছি। এখন তার প্রায়শ্চিত্ত করব। জবরদখল বরদাস্ত করা হবে না। নলডাঙার নিকাশি নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আমরা এব্যাপারে দ্রুত মানুষের জন্য পদক্ষেপ করব।
প্রসঙ্গত, চুঁচুড়া পুরসভা এলাকায় বারেবারে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলেও রাজনৈতিক চাপে প্রশাসন ও পুরসভাকে পিছিয়ে আসতে হয়েছে। অসিতবাবু জবরদখলকারীদের সরানোর বিরুদ্ধে ছিলেন। এ নিয়ে পুরপ্রধান ও বিধায়কের তরজা শহরবাসীর মধ্যে আলোড়ন ফেলেছিল। এদিন বিধায়ক ‘পাপ ও প্রায়শ্চিত্ত’ তত্ত্ব আউড়ে নিজের ভুলকেই কার্যত স্বীকার করে নিলেন। এ নিয়েই এখন চর্চা চুঁচুড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে।  নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ