নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডিজিটাল যুগ। দাপট সোশ্যাল মিডিয়ার। অন্তর্জালে মুহূর্তে যোগাযোগ সম্ভব বলে চিঠি লেখা আর হয় না। ফলে এখনকার শিশুদের চিঠি লেখা সম্পর্কে ধারণাই প্রায় নেই। এবার স্কুল পড়ুয়াদের চিঠি লেখা সম্পর্কে ধারণা দিতে ও পোস্ট অফিস সম্পর্কে জানাতে ‘জয় অফ রাইটিং’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করল ডাক বিভাগের হাওড়া ডিভিশন। বৃহস্পতিবার সাঁকরাইলের একটি প্রাথমিক স্কুলে প্রতিযোগিতাটি হয়। অংশ নিয়েছিল হাজারেরও বেশি পড়ুয়া।
Advertisement
সাঁকরাইলের কান্দুয়া মহাকালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জয় অফ রাইটিং বা লেখার আনন্দ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল ১১ প্রাইমারি ও ছ’টি হাইস্কুল। অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের মধ্যে কেউ বন্ধুকে, কেউ দূরের কোনও আত্মীয়কে চিঠি লিখেছে। গোটা গোটা অক্ষরে হাতে লেখা চিঠি দেখে তাঁদের অভিভাবকরা ফিরে যান নিজেদের ছোটবেলায়। তাঁদের অনেকে বলেন, ‘আমাদের সময় টেলিফোন ছিল না। টেলিগ্রাম ছিল বিশাল ব্যাপার। পুজোর পর নিয়ম করে দূরের আত্মীয়দের পোস্ট কার্ড বা ইনল্যান্ড লেটারে চিঠি লেখার রীতি ছিল। এখনকার শিশুরা তো জানেই না চিঠি কি জিনিস।’ আর ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, চিঠি লেখা কমে যাওয়ায় পোস্ট অফিসের সংখ্যা যাচ্ছে কমে। বিশেষ করে একাধিক সাব পোস্ট অফিস প্রায় বন্ধের মুখে। হাওড়া ডিভিশন ডাক বিভাগের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট গীতা বালা বলেন, ‘শুধু চিঠি লেখাই নয়, ডাক বিভাগ সম্পর্কে পড়ুয়াদের ধারণা দিতে এই ধরনের সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি আমরা।’ চিঠি লিখতে পেরে খুশি বাচ্চারাও। পাঠ্য বইয়ের সিলেবাস অনুযায়ী গতে বাধা প্রবন্ধ লেখে তারা। চিঠি লেখার মতো আনন্দ তাতে নেই। প্রীতি খাতুন নামে পঞ্চম শ্রেণির এক পড়ুয়া বলে, ‘আমরা তো চিঠি লিখিই না। তবে পরীক্ষায় প্যারাগ্রাফ রাইটিং থাকে। কীভাবে চিঠি লিখতে হয় মা দেখিয়ে দিয়েছিল। স্কুলের স্যাররাও দেখিয়েছেন।’ কান্দুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মিতালি দেতি বলেন, ‘চিঠি লেখা যাতে বিলুপ্ত না হয়ে যায় তার জন্য নতুন প্রজন্মকে শেখাতে হবে।’



