নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শুরু হয়েছিল স্মার্ট সিটি এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্লোগানে। নাগরিক উন্নয়ন ১০ বছরে মুখ থুবড়ে পড়েছে। কারণ রিজার্ভ ব্যাঙ্কই জানিয়েছে শহরাঞ্চলে পণ্য ক্রয় প্রবণতা তলানিতে। ২০১৪ সালে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি প্রকল্প ব্যর্থতার পাহাড়। গর্ত খোঁড়া ছাড়া এই প্রকল্পের কোনও কাজ নেই। শহরে কাজ না পেয়ে ১০ বছর পর আজ এই প্রকল্পের উপর গ্রামীণ ভারত সবথেকে বেশি নির্ভরশীল। উজ্জ্বল নগরায়নের স্বপ্নে বিভোর মোদি সরকার ১০ বছর পর বাস্তবের মাটিতে নেমে দেখতে পাচ্ছে, শহর নির্ভর অর্থনীতি দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বোধোদয় হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আমাদের আগামী লক্ষ্য গ্রাম স্বরাজ। গ্রামে শহরের সবরকম সুবিধা ও উন্নয়ন পৌঁছে দিতে হবে। ১০ বছর ধরে আমরা সেই চেষ্টাই করছি। এই লক্ষ্যেই অগ্রসর হতে হবে। মহাত্মা গান্ধীর বাণী ও স্বপ্নকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গান্ধীজি বলতেন ভারতের আত্মা গ্রামে বাস করে। গান্ধীজির সেই স্বপ্ন সবথেকে বেশি বাস্তবায়িত হচ্ছে বিগত ১০ বছর ধরে। শনিবার স্বামীত্ব নামক প্রকল্পে জমি ও সম্পত্তির মালিকানার সার্টিফিকেট দেশের ৫০ হাজার গ্রামের ৬৫ লক্ষ মানুষকে দেওয়া হল। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই প্রাপকদের একাংশের সঙ্গে কথাও বলেন। ভাষণে যথারীতি আমিত্ব প্রবণতার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ১০ বছর আগে পর্যন্ত জমির বৈধ কাগজপত্র কাছে না থাকায় লক্ষ লক্ষ গ্রামবাসীর সম্পত্তির দাম ছিল শূন্য। প্রয়োজনে লোনও পেত না তারা। আমরা ক্ষমতায় এসে এই সম্পত্তির সার্টিফিকেট দেওয়া শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোটা দেশে ড্রোন মারফত জমি ও বাড়ির ম্যাপিং চলছে। মোট ৬ লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে সাড়ে ৩ লক্ষ সমীক্ষা হয়ে গিয়েছে। এদিন গ্রামস্বরাজের ঘোষণা করে মোদি দাবি করেন ১০ বছরে সরকারের যে বৃহৎ প্রকল্পগুলি রূপায়িত হয়েছে, তার সিংহভাগই গ্রামের জন্য। আড়াই কোটি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। ১০ কোটি পরিবারের জন্য শৌচালয় নির্মাণ করা হয়েছে। উজ্জ্বলা গ্যাস যোজনায় ১০ কোটি মহিলাকে দেওয়া হয়েছে গ্যাস সংযোগ। ১২ কোটি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে পানীয় জলের সংযোগ। ৫০ কোটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালু হয়েছে। দীর্ঘ বক্তৃতায় শুধু নীরব থেকেছেন কর্মসংস্থান এবং ১০০ দিনের কাজ নিয়ে। ছবি: পিটিআই



