নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি চাইছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি এআই দূর-অস্ত, এখনও কি সম্পূর্ণভাবে ‘ডিজিটাল’ হতে পেরেছে? ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজকর্ম বা পরিষেবা ‘ডিজিটাইজড’ হলে যে নানারকম সুবিধা রয়েছে, মানেন সবাই। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, এই সত্য মেনে নিয়েও বহু এমএসএমই সংস্থা এখনও ডিজিটাইজেশনের পথে হাঁটেনি। তবে অদূর ভবিষ্যতে তারা সেই কাজে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ছোট শিল্পের ডিজিটাল পালাবদলের উপর সম্প্রতি সমীক্ষা চালায় একটি সংস্থা। প্রায় দেড় লক্ষ সংস্থাকে তারা এই সমীক্ষার আওতায় আনে। তাদের দাবি, প্রায় অর্ধেক এমএসএমই জানিয়েছে, তারা অনলাইন বা ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর হয়নি এখনও। এখনই তারা ডিজিটাল ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে চায় না। ৩৫ শতাংশ সংস্থা জানিয়েছে, তারা ডিজিটাল পেমেন্ট নিতেই অভ্যস্ত। ৩০ শতাংশ সংস্থা তাদের ক্রেতা বা গ্রাহক পেতে ডিজিটাল ব্যবস্থার দ্বারস্থ হয়। ৪০ শতাংশ সংস্থা তাদের পণ্য বা পরিষেবা বিপণনে ডিজিটাল ব্যবস্থার সুবিধা নেয়। সমীক্ষাটি বলছে, ডিজিটাল ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র, ফিনান্সিয়াল সেক্টর এবং পরিবহণ। এর পাশাপাশি বর্তমানে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে আসছে রিটেল বা খুচরো ব্যবসা এবং নির্মাণ শিল্প। তবে চলতি বছরের মধ্যে ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে বাজেট বৃদ্ধির পথে হাঁটবে প্রায় অর্ধেক সংস্থা। ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি তাদের ব্যবসায়িক তথ্য সুরক্ষিত রাখতে নানা ধরনের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে উঠে এসেছে সমীক্ষায়। সমীক্ষায় আরও দেখা গিয়েছে, বছরে ১০ কোটি টাকার নীচে রয়েছে যে ব্যবসাগুলি, সেখানে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই তথ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তার জন্য কোনও নিজস্ব ‘ক্লাউড’ ব্যবহার করা হয় না। সর্বসাধারণের জন্য যে সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে, সেগুলিই ব্যবহার করে তারা। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে বার্ষিক ব্যবসার অঙ্ক ১০০ কোটি টাকা বা তার নীচে, সেক্ষেত্রে আলাদা ‘ক্লাউড’ ব্যবহার করে সংস্থাগুলি।



