Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জেলা সভাপতি বনাম বিধায়ক, বিজেপির কোন্দল পানিহাটিতে

পানিহাটিতে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলে তীব্র উত্তেজনা, মারধর ও বিক্ষোভ। জেলা সভাপতি ও বিধায়কের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই। বিস্তারিত পড়ুন।

জেলা সভাপতি বনাম বিধায়ক, বিজেপির কোন্দল পানিহাটিতে
  • ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পানিহাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর তুমুল লড়াই বেধে গেল! শনিবার দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় চলে মারধর, বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও। এক সময় পুলিশ লাঠিচার্জ পর্যন্ত করে। দিনভর এভাবেই উত্তাল হয়ে থাকল পানিহাটি। যাবতীয় ঘটনা নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে তো বটেই, রাজনৈতিক মহলেও তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। তাই পদক্ষেপ করারও প্রশ্ন নেই।

Advertisement

সূত্রে খবর, রাজ্যে পালাবদলের পর পানিহাটিতে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই চরম আকার নিয়েছে। প্রথম দিকে বিজেপি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় গোষ্ঠীর লোকজন গোটা পানিহাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিছুদিন পরেই বিধায়ক রত্না দেবনাথের গোষ্ঠী ময়দানে আবির্ভূত হয়। কোন গোষ্ঠীর হাতে থাকবে পানিহাটির নিয়ন্ত্রণ, তা নিয়ে বিবাদ শুরু। কিন্তু তোলাবাজির অভিযোগ ঘিরে তা চরম আকার নেয়। শনিবার বিধায়ক গোষ্ঠীর পিন্টু শেখকে বি টি রোডের বেঙ্গল কেমিকেল কারখানা লাগোয়া এলাকায় মারধরের অভিযোগ ওঠে জেলা সভাপতির গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। পালটা বিধায়ক গোষ্ঠীর ফোনে খড়দহ থানার পুলিশ বাদল দাস, সুজয় বিশ্বাস ও অনীশ চক্রবর্তীকে আটক করে। তাঁদের ছাড়াতে রাত পর্যন্ত খড়দহ থানায় বিক্ষোভ দেখায় জেলা সভাপতি গোষ্ঠী। চাপের কাছে নতিস্বীকার করে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ। এরপর বিধায়ক গোষ্ঠীর লোকেরা পানিহাটি-২ নম্বর মণ্ডল অফিসে চড়াও হন। অভিযোগ, তাঁরা মণ্ডল সভাপতি নীতিশ পণ্ডিতকে মারধর করেন। মণ্ডলের সহ সভাপতি শঙ্করী দাসকেও হেনস্তা করা হয়। পালটা দিতে বেরিয়ে পড়েন জেলা সভাপতি গোষ্ঠীর কয়েকশো ছেলে। তাঁরা বিধায়ক গোষ্ঠীর নেতা তুফান দে’র বাড়ি ঘিরে ফেলেন। খবর পেয়ে রাতে ঘোলা থানার এসিপির নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী পৌঁছায়। লাঠি চালিয়ে জেলা সভাপতির গোষ্ঠীকে হটানো সম্ভব হয়। এই কোন্দলের জেরে সমাজ মাধ্যমেও একে-অপরের বিপক্ষে পোস্ট ও পালটা পোস্ট চলছে। যদিও বিজেপি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, ‘আমাদের দলে কোথাও কোনো গোষ্ঠী বা দ্বন্দ্ব নেই। লাভ জেহাদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামান্য বচসা ও ঝামেলা হয়েছে। ভুল বোঝাবুঝি থাকলে আমরা নিজেরা বসে মিটিয়ে নেব।’ বিধায়ক রত্না দেবনাথের স্বামী শেখর দেবনাথকে ফোন করা হলে তিনি এনিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ