নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির সম্ভাবনাকে ঘিরে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই জায়গা চিহ্নিতকরণ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে সরকারি নির্দেশিকা মেনে গোটা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ‘বাংলাদেশি কলোনি’ গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। বিশেষ করে মেদিনীপুর শহর ও শহরতলির কিছু এলাকায় বহু বছর ধরে বসবাসকারী মানুষের নাগরিকত্ব ও নথি নিয়ে নতুন করে খোঁজখবর শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা জানান, উপর মহল থেকে জায়গা চিহ্নিতকরণের বার্তা এসেছে। যদিও কোথায় এই ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ভোটের আগে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যথেষ্ট শোরগোল পড়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তৎপরতায় জেলার প্রায় ৫০ হাজারের বেশি বিচারাধীন ভোটারের নাম নিয়ে ঝাড়াই বাছাই শুরু হয়। বহু মানুষের ভোটার কার্ড, আধার, জন্মসনদ সহ বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখা হয়েছিল। সেই সময় তৃণমূল অভিযোগ তুলেছিল, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। আবার অন্যদিকে বিজেপির একাংশ দাবি করেছিল, ভোটার তালিকা স্বচ্ছ রাখতেই এই উদ্যোগ।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনুপ্রবেশ ইস্যু আরও গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সেই আবহেই পশ্চিম মেদিনীপুরেও তৎপরতা বাড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
মেদিনীপুর শহরের এক বাসিন্দার দাবি, পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বরিশাল কলোনি, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরিষা পাড়া ও খয়রুল্লা চক এলাকায় বহু বছর ধরে বাংলাদেশি কলোনি রয়েছে বলে শুনে আসছি। যারা বৈধভাবে এসেছে, তাদের নিয়ে সমস্যা নেই। কিন্তু যারা পরে এসে বসবাস করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এই প্রসঙ্গে মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত বলেন, এই সরকার কোনো অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করবে না। কেউ যদি অসৎ উদ্দেশ্যে অন্য দেশ থেকে এ দেশে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূলের তরফে। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মহম্মদ রফিক বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে যারা এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হোক। কিন্তু বিজেপি সরকারের জনবিরোধী নীতির ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছেন। এসআইআরের নামে যেভাবে হয়রানি হয়েছে, মানুষ তা ভুলবে না।
সব মিলিয়ে, পশ্চিম মেদিনীপুরে সম্ভাব্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ ইস্যু আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।