নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বুধবার পথে নামল জেলা প্রশাসন। শহরের ব্যস্ত কেএনসি রোডে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানো ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। সরকারি জমির উপর থাকা দোকান বা দোকানের অংশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়।
বারাসত শহরের জাতীয় ও রাজ্য সড়ক সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরেই জবরদখল হয়ে আছে। সবজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামগ্রীর অস্থায়ী বাজার বসে ফুটপাত জুড়ে। কোথাও আবার স্থায়ী দোকানের অংশও ফুটপাত দখল করে রয়েছে। ফলে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় নেমে চলাচল করতে হয়। এর জেরেই বাড়ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। সবচেয়ে বেশি সমস্যা কেএনসি রোডে। জেলা প্রশাসনের একাধিক দপ্তর, আদালত এবং সরকারি ভবনে যাওয়ার প্রধান রাস্তা এটি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দু’ধারের ফুটপাতের বড় অংশই দখল হয়ে রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসরিয়া, বারাসত পুলিশ সুপার জে মার্সি, বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়, বারাসতের এসডিও ভুবুনপ্রণিত পাপ্পুলা, বারাসত এসডিপিও শুভাঙ্গী সুদর্শন কেকান সহ জেলা প্রশাসনের অফিসাররা কেএনসি রোড পরিদর্শন করেন। জবরদখলকারী ব্যবসায়ীদের ফুটপাত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর না হলে শহরজুড়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।
জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসরিয়া বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফুটপাত খালি না হলে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালাবে। বারাসতের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত খালি করা হবে। বারাসতের বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, মানুষের চলাচলের অধিকার কোনোভাবেই বিঘ্নিত হতে পারে না। তাই জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথমে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে। তারপরও সরকারি জমি দখলমুক্ত না হলে আইন মেনে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নাগরিকদের স্বার্থেই উচ্ছেদ অভিযান চলবে। নিজস্ব চিত্র