Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মিটল দূরত্ব! বারুণী মেলার যৌথ দায়িত্বে শান্তনু-মমতা, তৈরি হল নতুন কমিটিও

জল্পনার অবসান। এবছর বনগাঁর ঠাকুরনগরের বারুণী মেলা হবে যৌথ উদ্যোগেই। মমতা ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুরের গোষ্ঠীর সদস্যরা মিলে গঠন করলেন ১২ জনের মেলা কমিটি।

মিটল দূরত্ব! বারুণী মেলার যৌথ দায়িত্বে শান্তনু-মমতা, তৈরি হল নতুন কমিটিও
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও সংবাদদাতা, বনগাঁ: জল্পনার অবসান। এবছর বনগাঁর ঠাকুরনগরের বারুণী মেলা হবে যৌথ উদ্যোগেই। মমতা ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুরের গোষ্ঠীর সদস্যরা মিলে গঠন করলেন ১২ জনের মেলা কমিটি। হাইকোর্টের নির্দেশে জেলা পরিষদের শুনানি শেষে মেলা আয়োজনের অনুমতি মমতা ঠাকুররা পেলেও, এবছর নতুন এই কমিটি যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালনা করবে বলেই ঠাকুরবাড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে হাইকোর্ট অবশ্য শান্তনু ঠাকুরের আবেদন খারিজ করে ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তকে বহাল রাখে। বিচারপতি বিভাস পট্টনায়েক জানান, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

Advertisement

মতুয়াদের ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম চৈত্রমাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে। ঠাকুরের জন্মতিথিতেই শুরু হয় বারুণী মেলা। এই মেলার সঙ্গে ২১৪ বছরের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। আগামীকাল, ২৭ মার্চ মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে মেলা শুরু হবে। লক্ষ লক্ষ ভক্তের ঢল নামবে ঠাকুর বাড়িতে। ভোর থেকে ঠাকুরবাড়ির কামনা সাগরে ডুব দিয়ে পুণ্যস্নান সারবেন লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভক্তরা। ডঙ্কা, কাশি আর লাল নিশান উড়িয়ে পাগল, গোঁসাই, দলপতিরা এসে ঠাকুর মন্দিরে কীর্তন করেন। বিগত কয়েক বছর ধরেই মতুয়া মেলার দখলদারি নিয়ে শান্তনু-মমতার দ্বৈরথ দেখেছেন মতুয়া ভক্তরা। শান্তনু ঠাকুর বিজেপির সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী। আর মমতা ঠাকুর তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ। ফলে,বারুণী মেলাতেও রাজনীতির রং লাগে। তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। আর বিজেপি প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। একদিকে রাজনীতির সংঘাত,অন্যদিকে ঠাকুর বাড়ির দুই পরিবারের দ্বৈরথ। সে সব সরিয়ে এবারের মেলার সুরটা ঐক্যের, মিলনের। মিলেমিশে দুই কমিটি একাকার হতে চলেছে তা বলাইবাহুল্য। উল্লেখ্য, বিগত ১৫ বছর ধরে মেলার অনুমতি পেয়ে আসছেন মমতা ঠাকুর। এবারেও অনুমতি তিনিই পেয়েছেন। কিন্তু এনিয়ে জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। মতুয়া মহাসঙ্ঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই কমিটির পদাধিকারিরা বারুণী মেলা নিয়ে সদ্য একটি বৈঠক করেছেন। তাতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মেলা কমিটি হয়েছে ১২ জনকে নিয়ে। আর সেই কমিটির সম্পাদক হয়েছেন মমতা ঠাকুরের পক্ষে সব্যসাচী কীর্তনীয়া। আর সভাপতি হয়েছেন মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ঘনিষ্ট সদস্য বিজিতকান্তি মণ্ডল। এছাড়া নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন বনগাঁর মহকুমা শাসক ঊর্মি দে বিশ্বাস। এ নিয়ে মমতা ঠাকুর বলেন,মেলার অনুমতি আমরা পেয়েছি। মেলা পরিচালিত হবে নতুন কমিটির মাধ্যমে। মিলেমিশে কাজ করলে মতুয়াদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছবে। 
এদিকে, শান্তনু ঠাকুরের দাদা তথা গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছেন, যে কারণেই হোক এতদিন এটা হয়নি। এবার যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবেই মেলা হবে। ভবিষ্যতেও দুই কমিটি মিলে বারুণী মেলা করবে, এটাই চাই।

সম্পর্কিত সংবাদ