Bartaman Logo
১৩ জুন, ২০২৬

সোমবার ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ফের বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা, সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ

দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের বৈঠক। সংখ্যাবৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা। বিস্তারিত পড়ুন।

সোমবার ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে ফের বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা, সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ
  • ১৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এনডিএকে সমর্থন করতে লোকসভায় ‘আলাদা ব্লকে বসার’ অনুরোধ করে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এখনও বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের চিঠি জমা পড়েনি। তবে শুক্রবার প্রকাশ্যে এলো ১৯ জনের সই। ‘দল বিরোধী আইনে’র কোপ এড়িয়ে সাংসদ পদ বজায় রাখতে মরিয়া ওই তূণমূলী জনপ্রতিনিধিরা। তাই দলের প্রতীক পরিবর্তন না করে আলাদা হতে লোকসভায় প্রয়োজন ন্যূনতম ১৯ জনকে। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ। তা হাতে এসে গিয়েছে ঠিকই। তবুও স্নায়ুচাপে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা। 

Advertisement

কেন? কারণ, ১৯ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই দীপক অধিকারী (দেব) বেসুরো। ফলে তিনি যদি কোনোভাবে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেন যে, আমি আর ওই গ্রুপে নেই। নামটা বাদ দিন। তাহলে ফাঁপড়ে পড়ে যাবে বিুক্ষব্ধরা। না পারবেন মমতাপন্থী তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে বসতে। না দিতে পারবেন এনডিএকে সমর্থন। জেহাদ বজায় রাখতে গেলে ছাড়তে হবে সাংসদ পদ। এরই মধ্যে অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, সরকারের এক শীর্ষ স্থানীয় দাপুটে মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মহলে বলে দিয়েছেন, ‘টিএমসির সঙ্গে লড়াই করে সবে বাংলায় জিতেছি। এখন কোনো টিএমসিকে দলে নেব না। 
তাই মরিয়া হয়ে বিক্ষুব্ধদের সংখ্যা বাড়ানোর তোরজোড় শুরু হয়েছে। একদিকে বিক্ষুব্ধদের একজোট রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে সংখ্যা বাড়ানো। সেই মতো বিক্ষুব্ধদের ১৯ জনই একজোট কি না, তা পরখ করতে সোমবার দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। তারপর নৈশভোজ। সেটি অন্যত্র হতে পারে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও থাকবেন বলেই শোনা যাচ্ছে।  
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগে তূণমূলের এক মহিলা সাংসদকে ১৭ বার ফোন করেছেন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিরক্ত হয়ে মমতাপন্থী ওই সাংসদ মোবাইল ফোনের সুইচই বন্ধ করে দিয়েছেন। কীর্তি আজাদ তো সরাসরি বলেই দিয়েছেন যে, আমাকে (বিক্ষুব্ধ দলে যোগ দেওয়ার) চাপ দিতে আমার নিরাপত্তা কর্মী সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যাই করুক আমি দমে যাওয়ার পাত্র নই। অমিত শাহ এই অপারেশন লোটাস করছেন। নিশিকান্ত দুবে আর ভূপেন্দ্র যাদবকে মাঠে নামিয়েছেন। 
শত্রুঘ্ন সিনহা জানিয়েছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই মমতার হাত ছাড়ছি না। আর অভিষেক আমার নেতা নন। সহকর্মী সাংসদ। আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। যারা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন, হয়ত তাঁদের কারো ইডি-সিবিআইয়ের ভয় রয়েছে। কেউ লোভে, কেউ কেস থেকে বাঁচতে, কেউ হুজুগে যাচ্ছেন।’
ওদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষুব্ধ হতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁর অধিকার আছে আমাকে নিয়ে কথা বলার। আমাকে উনি ছোট থেকে বড় করেছেন। আমার ক্ষোভ নেই। উনি আমাকে এই সব কথা বলতে পারেন। তবে দলে যে সব শীর্ষ নেতা আমাকে নিয়ে কথা বললেন, তারা দলের মধ্যে বলতে পারেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ