Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ, তৃণমূলে যোগ পদ্ম শিবিরের যুবকর্মীদের

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ঘরে-বাইরে কোন্দল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিজেপি। হাওড়া সদরের সাঁকরাইলের পর এবার একই ছবি ধরা পড়েছে বালি বিধানসভা কেন্দ্রেও।

প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ, তৃণমূলে যোগ পদ্ম শিবিরের যুবকর্মীদের
  • ২২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই ঘরে-বাইরে কোন্দল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিজেপি। হাওড়া সদরের সাঁকরাইলের পর এবার একই ছবি ধরা পড়েছে বালি বিধানসভা কেন্দ্রেও। ফলে প্রচার শুরুর আগেই চাপে পড়ে গিয়েছে পদ্ম শিবির। তৃণমূলের প্রার্থীরা যখন জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন, তখন অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত বিজেপি অনেক জায়গাতেই সংগঠন গুছিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে।

Advertisement

বালিতে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে সঞ্জয় সিংহের নাম ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় নেতৃত্ব বা কর্মীদের মতামত না নিয়েই ‘বহিরাগত’ প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই শুক্রবার সন্ধ্যায় বালির বিজেপির প্রায় ৭০ জন বুথ সভাপতি ও ১৭টি শক্তি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পাশাপাশি ‘বালির ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করতে হবে’- এই দাবি তুলে রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র-সহ লিখিত অভিযোগ পাঠান তাঁরা। বালিতে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে প্রার্থী সঞ্জয় সিং উপস্থিত থাকাকালীনই দলের একাংশের কর্মীরা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। ‘সঞ্জয় সিং দূর হঠো’, ‘বহিরাগত প্রার্থী মানছি না’- এই ধরনের স্লোগান ওঠে। দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংহ বলেন, দলের কিছু কর্মীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে। আমরা বসে আলোচনা করলেই সমস্যার সমাধান হবে। বাড়িতে বেশি বাসন থাকলে একটু আওয়াজ হয়, কিন্তু বাসনগুলো ভেঙে যায় না।
এদিকে বিজেপির অন্দরের এই অশান্তির মধ্যেই বালিতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর ইঙ্গিত মিলেছে। শনিবার যুব মোর্চার প্রায় একশো কর্মী বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূল প্রার্থী কৈলাস মিশ্র। তিনি বলেন, কোনও দলের বুথস্তরের কর্মীরা যদি দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে সেই দলের সংগঠনই দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমানে বালিতে বিজেপির ক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল প্রার্থীর দাবি, বিজেপি প্রার্থী জুয়া, সাট্টায় ধৃত অপরাধীদের নিয়ে এসে প্রচারের কাজে লাগাচ্ছেন। দিশা হারানো বিজেপির বহু কর্মীই এখন তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও বিজেপির জেলা নেতৃত্ব তৃণমূলের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, ভিত্তিহীন প্রচার চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে শাসকদল।

সম্পর্কিত সংবাদ