নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: হায়দরাবাদে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজে গিয়ে ভয়ঙ্কর পরিণতি হল আসানসোলের এক ব্যক্তির। সেখানে তাঁর নলিকাটা দেহ উদ্ধার হয়েছে। রোশন হেলার (৪৩) নামে ওই ব্যক্তির বাড়ি আসানসোল উত্তর থানার শিবলালডাঙা এলাকা। হায়দরাবাদের নরসিঙ্গি থানা এলাকায় লেবার কলোনির যে ঘরে তিনি থাকতেন, তার সামনে থেকেই রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিস। ঘটনার পর তাঁর রুমে থাকা বাংলার আরও এক পরিযায়ী শ্রমিক নিখোঁজ। রঞ্জিত পণ্ডিত নামে ওই শ্রমিকের বাড়িও আসানসোলে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, রঞ্জিত ফোন করে জানিয়েছেন, হায়দরাবাদের যেখানে কাজ করছিলাম, সেখানে মারধর করে তাঁদের সব টাকা নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, রঞ্জিত কেন বেপাত্তা? জবাব মিলবে তাঁর খোঁজ মিললেই। এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, রোশনের খুনের সঙ্গে হায়দরাবাদে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নরসিঙ্গি থানার আইসি জি হরিকৃষ্ণা রেড্ডি বলেন, ‘আমরা সবদিকে খতিয়ে দেখছি।’
বুধবার বিকেলে রোশনের বাড়িতে আসে আসানসোল উত্তর থানার পুলিস। তাঁকে খুন করার হয়েছে বলে জানানো হয় পরিবারের লোকজনদের। বৃহস্পতিবার সকালেই বিমানে হায়দরাবাদে পাড়ি দিয়েছেন রোশনের দাদা সুরজ হেলা। এদিন সকালে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শোকের পরিবেশ। রোশনের বাবা, মা দু’জনেই মারা গিয়েছেন। স্ত্রীর সঙ্গে ডির্ভোস হয়ে গিয়েছে। দাদা, বউদির সঙ্গেই থাকতেন পেশায় রঙমিস্ত্রি। এবারই প্রথম তিনি আসানসোলের বাইরে কাজে গিয়েছিলেন। তাঁর বউদি তুলসি হেলা বলেন, ‘১৯ জুন দুপুর বারোটায় হঠাৎ বাড়িতে এসে বলে হায়দরাবাদে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজে যাব। দুপুর একটায় ট্রেন। ওর দাদা যেতে বাধা দিলেও তিনি শোনেননি। ২৪ জুন ফের ফোন করে বলেন, আমার আধার যাচাই হবে। তোমাদের মোবাইলে যাওয়া ওটিপি দাও। সেই শেষ ফোন। এরপর থেকে আরও কোনও যোগাযোগ ছিল না।’ বুধবার পুলিসের মুখে মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। রোশনের এক আত্মীয় মুন্নি হেলা বলেন, ‘রামকৃষ্ণডাঙালের কিছু ছেলের সঙ্গে হায়দরাবাদে কাজে গিয়েছিল।’
নরসিং থানার পুলিসের দাবি, বুধবার সকালে কারখানার প্লান্ট অপারেটর এইচআর ম্যানেজার পবন কুমার ফোন করে পুলিসকে জানান, অপর্ণা জেনন লেবার কলোনির ই-১১৪ ঘরের সামনে রক্তাক্ত একটি দেহ পড়ে রয়েছে। পুলিস সেখানে গিয়ে তাঁর আধার কার্ড থেকে পরিচয় নিশ্চিত করে। ধারাল ছুরি দিয়ে তাঁর গলা কাটা হয়েছে। ক্ষত দেখে প্রাথমিক ভাবে তাই মনে করছে হায়দরাবাদ পুলিস। ওই রুমেই তাঁর সঙ্গে থাকা রঞ্জিত পণ্ডিত বেপাত্তা। খুনের সূত্র পেতে তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস। রঞ্জিতের দাদা বজরঙ্গি পণ্ডিত বলেন, ‘বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ ভাই ফোন করেছিল। আমাকে বলেছিল, সব টাকা ওরা নিয়ে নিয়েছে। আমাকে নতুন কাজ খুঁজতে হবে। একজনের কাছে নতুন কাজের জন্য আকুতি করেছিল ভাই। তাঁর সঙ্গে আমার কথাও বলিয়ে দেয়। ওর রুমমেটের খুনের বিষয়ে কিছুই জানায়নি।’