সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: জাঙ্গিপাড়ার সিংটি-গুটি-আতড়া-বিলাসপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির প্রভাব খাটিয়ে ঋণ নেওয়ার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশীষ চক্রবর্তীর। পাপাশি অভিযোগ, প্রায় তিন কোটি টাকার হিসাবে গরমিল রয়েছে এই সমিতির। এই সমস্ত অভিযোগকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমন কমিটির প্রতিনিধিরা তদন্তে আসেন এই সমবায় সমিতিতে। চার সদস্যের প্রতিনিধি এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ তদন্তে আসেন জাঙ্গিপাড়ায়। তদন্তকারীদের দাবি, সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এই সমবায় সমিতিতে প্রভাব খাটিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার পঙ্কজ মাঝি জানান, এই সমবায়ে ৯৯২ জন সদস্য আছে। স্নেহাশীষ চক্রবর্তী তাঁদের মধ্যে একজন। ২০১৯ সাল থেকে ধাপে ধাপে ৯৬ লক্ষ টাকা ঋণ নেন তিনি। যদিও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সেই ঋণ শোধ করে দিয়েছিলেন। পঙ্কজবাবুর দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে এই ঋণ দেওয়া হয়েছিল। অপরদিকে, এর বাইরেও সমবায় সমিতিতে আরও প্রায় তিন কোটি টাকার গরমিল সামনে এসেছে। এক গ্রাহকের কাছে প্রায় ২ কোটি টাকার বকেয়া আছে দেখা যায়। অন্যদিকে ওই গ্রাহকের দাবি, তিনি সমস্ত টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। সেই গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে জুন মাসে সমিতির হিসাবরক্ষক রমেশ পাত্র গ্রেপ্তার হয়। এরপর ম্যানেজার ও রসিদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি স্বপন পাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুজনেই জামিনে মুক্তি পান। প্রায় তিন কোটি টাকার গরমিল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি তদন্তকারীরারা সংগ্রহ করে নিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথাও বলেন তাঁরা।
স্থানীয় চাষিরা জানান, কষ্ট করে টাকা জমিয়েছি এখানে। বর্তমানে সপ্তাহে একদিন মাত্র দুই হাজার টাকা করে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ওই টাকা তোলার জন্য রাত জেগে লাইন দিতে হচ্ছে। প্রশাসনিক কর্তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিলে উপকৃত হবে সমবায়ের গ্রাহকরা। অন্যদিকে চাষিরা বলছেন, আলু চাষের সময় সমবায় থেকে প্রয়োজনীয় সার না পেলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এই বিষয়ে তদন্তকারী আধিকারিক সুজয় মণ্ডল জানান, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে। স্নেহাশীষবাবু প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জেনেছি উনি এখানে থাকতেন না। প্রয়োজনে কমিশন ওঁনাকে ডাকতে পারে।
এই অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী বলেন, সমবায় সমিতির অন্য একটি বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের সময় দেখা যায়, আমি সেখান থেকে ঋণ নিয়েছি। ২০১৬ সালে আমাকে ওই সমবায়ের সদস্য করা হয়। ২০১৯ সালে আমি ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। বিনিময়ে দলিল সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা রেখেছিলাম। কখনই প্রায় এক কোটি টাকা ঋণ নিইনি। ঋণ নেওয়া টাকা শোধ করা হয়েছে। কমিশন ডাকলে অবশ্যই যাব।