কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: যেসব রেশন গ্রাহক এসআইআরের কোপে পড়েছেন, তাঁদের কার্ড তদন্তসাপেক্ষে বাতিল করার বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু করেছিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। কিন্তু এই পদক্ষেপের মাসতিনেকের ফলাফলে খাদ্যদপ্তর সন্তুষ্ট নয়। তাদের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা রিপোর্টে রয়েছে, কার্ড বাতিল বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে মাত্র ১৮.৫৬ শতাংশ। দপ্তরের হিসাবে, সংখ্যাটি খুবই কম। অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ও মৃত (এএসডি তালিকা) যে ৬০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে কাজটি হয়েছে মূলত তাঁদেরকে নিয়েই। ‘অ্যাডজুডিকেশনের’ মাধ্যমে যে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছেন এখন তাঁদের কার্ড বাতিলের উপর জোর দিতে বলা হয়েছে।
খাদ্যদপ্তর সূত্রের খবর, এসআইআরে বাদ পড়া ভোটারদের রেশন কার্ড যাচাই করতে গিয়ে খাদ্যদপ্তরের অফিসাররা দেখছেন অনেকের কার্ড ইতিমধ্যেই বাতিল বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ডেথ সার্টিফিকেট পেতে রেশন কার্ড জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করেছিল তৃণমূল সরকার। এছাড়া টানা কয়েকমাস রেশন না তুললেও কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। মৃত নাগরিকের তালিকা স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে সংগ্রহ করেও খাদ্যদপ্তর অনেক রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ২০২১ সালের পর এই প্রক্রিয়ায় দেড় কোটির বেশি কার্ড বাতিল বা নিষ্ক্রিয় হয়। তাই ‘এএসডি’ তালিকাভুক্ত ভোটারদের বেশিরভাগের রেশন কার্ড এখন চালু নেই। রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, কোনো বৈধ রেশন গ্রাহকের উপর যেন কোনোভাবেই কোপ না পড়ে, বিষয়টি খাদ্যদপ্তরকে নিশ্চিত করতে হবে।
এই কারণে যেসব ভোটার অ্যাডজুডিকেশনের পরও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তাঁদের কার্ডগুলি বিশেষভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। জুন মাসে সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, এঁদের মধ্যে যাঁরা সিএএ এবং ট্রাইবুনাল মারফত অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেছেন তাঁদের কার্ড আপাতত চালু থাকবে।