Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দুই ২৪ পরগনায় গ্রামোন্নয়নে গতিবৃদ্ধির নির্দেশ, দুর্নীতি ও গাফিলতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিলীপের

দুই ২৪ পরগনায় পঞ্চায়েত দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে আরও গতি আনার নির্দেশ দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

দুই ২৪ পরগনায় গ্রামোন্নয়নে গতিবৃদ্ধির নির্দেশ, দুর্নীতি ও গাফিলতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিলীপের
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বারাসত: দুই ২৪ পরগনায় পঞ্চায়েত দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে আরও গতি আনার নির্দেশ দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার দুই জেলার পর্যালোচনা বৈঠকে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখে তিনি জানান, এই দুই জেলার অনেক জায়গায় এখনো পিছিয়ে আছে। সবাইকে যাতে কাজ দেওয়া যায়, টাকা খরচ যাতে ঠিকমতো হয় সেটা প্রশাসনকে দেখতে হবে। কেউ কাজ না-পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, এমনটা যেন না-হয়। 

Advertisement

সুন্দরবন এলাকায় আবাসের সমীক্ষা ভালোভাবে করারও নির্দেশ দেওয়া হয় এদিনের বৈঠকে। কোনো যোগ্য মানুষ যাতে বঞ্চিত না-হয় তার জন্য বিডিওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গ্রামে খুঁটিয়ে সমীক্ষা চালানোর জন্য। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই সমীক্ষা চলবে। কিন্তু এখনো বহু গ্রামে কাজটি বাকি আছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। তাই বিডিওদের এই ব্যাপারে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী ও দপ্তরের সচিব পি উলগনাথান। পরিযায়ী শ্রমিকদের এখানে কাজ দেওয়ার ব্যাপারেও জোর দিতে পরামর্শ দেন মন্ত্রী। পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে গতি ফেরাতে নিয়োগের নিয়মে বড়ো পরিবর্তন আনার পথে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। এখনো শূন্যপদ রয়েছে প্রায় ১১ হাজার। সেই ঘাটতি মেটাতে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার বারাসতে উত্তর ২৪ পরগনার পর্যালোচনা বৈঠক শেষে এমনটা জানান পঞ্চায়েতমন্ত্রী।
ভিবি জি রামজি থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, শৌচালয় তৈরি থেকে অর্থ কমিশনের টাকা খরচসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে এদিন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন পঞ্চায়েত দপ্তরের আধিকারিকরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহামায়াতলা ও বারাসতের রবীন্দ্রভবনে পৃথকভাবে সব পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক, এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, বিডিও প্রভৃতি আধিকারিকের উপস্থিতিতে পর্যালোচনা চলে। 
অন্যান্য জেলার তুলনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা যে পিছিয়ে সেটা অকপটে স্বীকার করেছেন দিলীপবাবু।  তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি পঞ্চায়েত এই জেলায়। এটি রাজ্যের ‘গরিব’ জেলাগুলির মধ্যে একটি। বিশেষ করে, সুন্দরবনের মানুষের প্রাথমিক জীবিকার জন্য ঘর, শৌচালয়, রাস্তা, কাজের ব্যবস্থা করা একটা চ্যালেঞ্জ আমাদের কাছে। সবটা সব জায়গায় পৌঁছেছে কি না, সেটা দেখা হল। এখানকার যুবকদের হাতে কাজের ব্যবস্থা করা দরকার, যাতে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়ার প্রয়োজন তাঁদের দূর হয়। পঞ্চায়েতের প্রকল্পের অগ্রগতির পাশাপাশি এদিন বারাসতে পূর্বতন জমানায় জল জীবন মিশনের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির কথাও এদিন উল্লেখ করেন দিলীপবাবু। 
মন্ত্রীর অভিযোগ, ৩০ হাজার কোটি টাকার কোনো হিসাব নেই!  দুর্নীতি হয়েছে পানীয় জল প্রকল্পে। পাহাড় থেকে সাগর—প্রায় সব জায়গাতেই পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। এই দুর্নীতির বিশদ তদন্ত হবে। সব শেষে প্রশাসনকে একপ্রকার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। বারাসতের বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, আশানুরূপ কাজ না-হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ