Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিক্ষোভের মুখে অভব্য দিলীপ, মহিলাদেরও তুমুল গালিগালাজ

রাস্তা উদ্বোধন করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন। আর তারপরই শুরু হল গালিগালাজ। ছাড় পেলেন না মহিলারাও।

বিক্ষোভের মুখে অভব্য দিলীপ,  মহিলাদেরও তুমুল গালিগালাজ
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০২
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: রাস্তা উদ্বোধন করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন। আর তারপরই শুরু হল গালিগালাজ। ছাড় পেলেন না মহিলারাও। অপরাধ, ‘জননেতা’কে এতদিন কেন এলাকায় দেখা যায়নি, সেই প্রশ্ন করেছিলেন তাঁরা। সে জন্য গলা টিপে দেওয়ার হুমকিও শুনতে হল খড়্গপুরের আম জনতাকে। জননেতার নাম? দিলীপ ঘোষ। 

Advertisement

খড়্গপুর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়া এলাকা। সাংসদ থাকাকালীন এখানে রাস্তার জন্য টাকা বরাদ্দ করেছিলেন দিলীপবাবু। এদিন দুপুরে সেই রাস্তাই উদ্বোধন করতে যান। তখন এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে মহিলারা তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘কী দিলীপবাবু, আপনাকে এতদিন দেখতে পাইনি... হঠাৎ করে এখন এলেন?’ এই কথা শুনেই মেজাজ হারান দিলীপ ঘোষ। আধাসেনার ঘেরাটোপে দাঁড়িয়ে রীতিমতো তাঁদের সঙ্গে বচসা শুরু করে দেন তিনি। অভিযোগ, ‘বাপ তুলে’ গালিগালাজ করেছেন দিলীপবাবু। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। তাঁর গাড়ি ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। প্রীতি কাঁড়ার নামে এক মহিলা প্রতিবাদ করলে দিলীপবাবু গলা টিপে দেব বলে তাঁর দিকে তেড়ে যান। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, রীতিমতো তুই-তোকারি করছেন দিলীপবাবু। তারপর দেহরক্ষীদের নির্দেশ দিচ্ছেন, ‘ওদের’ সরিয়ে দেওয়ার জন্য। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। স্থানীয়রা রাস্তা উদ্বোধনের বোর্ড খুলে ফেলে দেন। 
সাংবাদিকদের সামনেও রীতিমতো আগ্রাসী মেজাজে ফেটে পড়েন দিলীপবাবু। বলেন, ‘একটা রাস্তা উদ্বোধন করতে গিয়েছিলাম। তৃণমূল কাউন্সিলার প্রদীপ সরকার কিছু মহিলাকে পাঠিয়েছিলেন। তারা আমাকে প্রশ্ন করছিল কেন এসেছেন। আমি বলেছি, আমি টাকা দিয়েছি, কারও বাপের টাকা নয়। আমি টাকা দিয়ে রাস্তা করেছি। আমি কারও বাপ তুলিনি। তবে যারা ঘেউ ঘেউ করবে, দিলীপ ঘোষ তাদের বাপ তুলেই কথা বলবে।’ তুমুল শ্লেষের সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘সুবিধাভোগীরা পাঁচশো টাকা নিয়ে ঘেউ ঘেউ করে। পাঁচশো টাকার চাকররা কিছু করতে দেয় না, কিছু করেও না।’ 
দিলীপবাবুর এই অচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন প্রদীপবাবু। তিনি বলেন, ‘একজন প্রাক্তন বিধায়ক, সাংসদ হয়ে তিনি এদিন মহিলাদের সঙ্গে যে অশালীন আচরণ করলেন, তা ভাবা যায় না। তিনি খুব লজ্জার কাজ করেছেন। এই রাস্তার জন্য তিনি নাকি দু’বছর আগে টাকা বরাদ্দ করেছেন। নোডাল এজেন্সি হিসেবে কাজ করেছে পুরসভা। উদ্বোধন করতে হলে পুরসভা, স্থানীয় কাউন্সিলারকে জানাতে হবে। তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে উদ্বোধন করতে  চলে এসেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই স্থানীয়রা প্রশ্ন করেছেন!’ 
স্থানীয় মহিলা বৈশাখী সাহা বলেন, ‘আমাদের কাউন্সিলার পাঠাননি। আমরা স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে এসেছি। তাঁকে আমরা প্রশ্ন করি, এতদিন পরে কেন? এরপরই উনি গালিগালাজ শুরু করে দেন। গলা টিপে দেব বলেন। ওঁর রক্ষীরা লাঠি দিয়ে আমাদের সরিয়ে দেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ