নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারত ও ইংল্যান্ডের প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা শেষের পরই এল দুঃসংবাদ। প্রয়াত প্রাক্তন ক্রিকেটার দিলীপ দোশি। এদিন আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে জীবনাবসান ঘটে তাঁর। ভারতের এই প্রাক্তন বাঁ-হাতি স্পিনারের বয়স হয়েছিল ৭৭। চশমা চোখের ধ্রুপদী এই স্পিনারের ৩৩ টেস্টে রয়েছে ১১৪ উইকেট। পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ছ’বার। খেলেছেন ১৫টি একদিনের ম্যাচেও। তাতে নেন ২২ উইকেট। ৩.৯৬ ইকনমি রেটও তারিফযোগ্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি বাংলা ছাড়াও সৌরাষ্ট্র, ওয়ারউইকশায়ার ও নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলেছেন। ১৯৬৮ -৬৯ মরশুম থেকে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত। ২৩৮ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তাঁর শিকারসংখ্যা ৮৯৮। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেন ৪৩বার। ম্যাচে ১০ উইকেট পান ১০বার। তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা বর্তমান।
আদ্যন্ত ভদ্রলোক দিলীপ অবশ্য প্রাপ্য সমাদর পাননি। টেস্ট অভিষেক হয়েছিল অনেক দেরিতে, ৩২ বছর বয়সে। তার আগে বিষাণ সিং বেদির ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু অভিষেকের তিন বছরের মধ্যেই পৌঁছে যান ১০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলকে। হয়ে ওঠেন নেতা কপিল দেবের বড় ভরসা। নিখুঁত পরিকল্পনা ও স্ট্র্যাটেজি অনুসারে বোলিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি। নিয়ন্ত্রণ ও ফ্লাইট ছিল তাঁর অস্ত্র। স্কিলের উন্নতির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতেন। বর্ষার সময়ও বল করেই যেতেন নেটে। তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটজীবন অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে দাঁড়ি পড়ে ১৯৮৩’র সেপ্টেম্বরে। এরমধ্যেই রয়েছে ১৯৮১ সালের মেলবোর্নের স্মরণীয় টেস্ট জয়। সেখানে পায়ে চোট নিয়েই পাঁচ উইকেট নেন তিনি। তবে সুনীল গাভাসকরের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতির কারণে থমকে যায় তাঁর ক্রিকেটজীবন। বিশেষ করে ১৯৮২-৮৩ সালের পাকিস্তান সফরে তা চরমে ওঠে। সেই সময় রবি শাস্ত্রী, মনিন্দার সিংয়ের মতো বাঁ-হাতি স্পিনারের উঠে আসাও কাঁটা হয়ে বেঁধে।
দিলীপ দোশির প্রয়াণে ক্রিকেট মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাংলার রণজি জয়ী অধিনায়ক সম্বরণ ব্যানার্জির স্মৃতিচারণ, ‘ওঁর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। ১৯৭৭ সালে ভারতীয় দলের শিবির বসে চেন্নাইয়ে। দিলীপদাই ছিলেন আমার রুম পার্টনার। উনি বাংলা তথা ভারতের অন্যতম সেরা স্পিনার। আমি শোকস্তব্ধ।’ শোকবার্তা প্রকাশ করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও।