Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেষ প্রচারে কলকাতায় ব্রাত্য দিলীপ, পদ্মের অন্দরে ক্ষোভ, ‘ওখানে তো বড় বড় নেতারা রয়েছেন’

বিজেপির শেষ মুহূর্তের প্রচারে মহানগর কলকাতায় ব্রাত্যই থেকে গেলেন দিলীপ ঘোষ।

শেষ প্রচারে কলকাতায় ব্রাত্য দিলীপ, পদ্মের অন্দরে ক্ষোভ, ‘ওখানে তো বড় বড় নেতারা রয়েছেন’
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: বিজেপির শেষ মুহূর্তের প্রচারে মহানগর কলকাতায় ব্রাত্যই থেকে গেলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর ‘সাজানো বাগান’ থেকে দলের বহু নেতা-কর্মী দলে দলে কলকাতামুখী হলেও ডাক পেলেন না বাংলায় গেরুয়া শিবিরের উত্থানে মূল ‘কারিগর’ই! দিলীপ শেষ সভা করেছিলেন কলকাতার উপনগরী বিধাননগরে। সেটা ছিল ২৫ এপ্রিল। তারপর থেকে তিনি অন্যান্য জেলায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। কিন্তু, কলকাতায় তাঁর ডাক পড়েনি। এ নিয়ে দলের অন্দরেই চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রচারের শেষলগ্নে দিলীপ ছিলেন হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে। সেখান থেকে ফোনে বলেন, ‘আমি ভবানীপুরে প্রচারে যাইনি। ওখানে সব বড় বড় নেতারা প্রচার করছেন। আমি অন্যান্য বিধানসভা এলাকায় প্রচারে রয়েছি।’ দিলীপের এমন মন্তব্যে চাপ একটা আক্ষেপ লুকিয়ে রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।    

Advertisement

২০১৪ সাল। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার গঠন করে। তারপর থেকেই বাংলার  রাজনীতিতে গেরুয়া রংয়ের বিকাশে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্য বিজেপির সভাপতির পদে বসে দলের সংগঠন বাড়িয়েছেন। জেলা থেকে রাজ্য—সব স্তরেই তাঁর প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটে জিতে সাংসদও হয়েছেন। কিন্তু, ২০২০ সালের পর থেকে ছবিটা দ্রুত বদলাতে শুরু করে। ‘দলবদলু’ নেতার আগমনে দলের ভিতর নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। কোণঠাসা হতে থাকেন দিলীপ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না আসার পর সেই চাপ আরও বেড়েছিল। দিলীপ-ঘনিষ্ঠ এক নেতার কথায়, সিট বাড়লেও বাংলা দখল হয়নি। তারপর থেকেই ধীরে ধীরে দিলীপকে কোণঠাসা করা হয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জেতা আসন থেকে তাঁকে সরিয়ে অন্যত্র প্রার্থী করা হয়। মন থেকে দলের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কষ্ট হয়েছিল দিলীপের। রাখঢাক না করে প্রকাশ্যে বলেওছিলেন, ‘মেদিনীপুর আমার সাজানো বাগান। সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে!’ 
দলের এই সিদ্ধান্ত যে ‘আত্মঘাতী’ ছিল, সেটা ফলাফলেই স্পষ্ট। দিলীপবাবু হেরে যান। তাঁর জায়গায় যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল সেই অগ্নিমিত্রা পলেরও পরাজয় ঘটে। পরে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হলে দলে দিলীপের গুরুত্ব বাড়ে। তাঁকে এবার প্রার্থীও করা হয়। সেই মতো তিনি নিজের কেন্দ্র ছাড়াও বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রচার করেছেন। নন্দীগ্রামে ‘দাদা’র মনোনয়নে দিলীপ হাজির ছিলেন। আবার খড়্গপুরেও দিলীপের মনোনয়নে ছিলেন ‘দাদা’। এমন একটা ছবি তুলে ধরে দলের তরফে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু, শেষমুহূর্তে কলকাতায় দিলীপের অনুপস্থিতির নেপথ্যে দলের একটা অংশের কলকাঠি দেখছেন তাঁর অনুগামীরা। জেলার এক বিজেপির নেতার কথায়, মেদিনীপুর শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে বহু নেতা-কর্মী গাড়ি, বাসে চেপে ভবানীপুরে গিয়েছেন। ভিড় বাড়াতে ছোট নেতারাও সেখানে প্রচার করছেন। কিন্তু দিলীপবাবুর মতো অভিজ্ঞ নেতা নেই। এটা দলের পক্ষে ভালো বিজ্ঞাপন নয়। তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মহম্মদ রফিক কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিজেপি মানুষকে শুধুমাত্র ব্যবহার করতে জানে।’

সম্পর্কিত সংবাদ