সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত তিরুপতি মন্দিরের আদলে এবার বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরেও চালু হল ডিজিটাল কুপন। রবিবার থেকেই ৫০০ টাকার কাগুজে কুপন বন্ধ করে অনলাইন টিকিট বুকিং চালু হল। তবে তীর্থক্ষেত্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা পুণ্যার্থীদের কতটা স্বস্তি দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পুণ্যার্থীরা নিজেদের স্মার্টফোনে ফেথ ৩৬০ (Faith 360) অ্যাপটি ডাউনলোড করে নাম ও মোবাইল নম্বর নথিভুক্ত করার পর ওটিপি ও অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ৫০০ টাকার কুপন সংগ্রহ করতে পারবেন। হোটেল, ট্রেন বা বাসে বসেই নির্দিষ্ট ‘টাইম স্লট’ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে অ্যাপটিতে, যাতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে না হয়। রামপুরহাটের মহকুমা শাসক অশ্বিন বি রাঠোর, এসডিপিও কমল তেজ, বিধায়ক ধ্রুব সাহা ও মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় যৌথভাবে এই পরিষেবার সূচনা করেন। ধ্রুব সাহা জানান, মন্দিরের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতেই দেড় মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা শুরু হল। ভবিষ্যতে এই অ্যাপেই লাইভ আরতি দর্শন, প্রসাদ ও হোটেল বুকিংয়ের সুবিধা যুক্ত হবে। তবে বর্তমানে ৫০০ টাকার ভিআইপি লাইনের পরও চটজলদি দেবী দর্শনে আরও বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। এই প্রসঙ্গে ধ্রুব সাহা বলেন, এটা আগে হতো। এখন থেকে এমন অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুণ্যার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, শনি-রবিবার বা বিশেষ তিথিগুলিতে তারাপীঠে ভিড় বাড়লেই মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। ফি বছর কৌশিকী অমাবস্যার সময় লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমে নেট পরিষেবা তো দূরের কথা, সাধারণ ফোন কল করাই দায় হয়ে ওঠে। অসম থেকে আসা পুণ্যার্থী বিমল শর্মা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, যোগাযোগের ক্ষেত্রই যেখানে চূড়ান্ত অব্যবস্থা, সেখানে ইন্টারনেট ছাড়া ৫০০ টাকার অনলাইন পেমেন্ট কীভাবে সম্ভব?
মোবাইল নেটওয়ার্কের এই সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন রামপুরহাটের মহকুমা শাসক। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই সমস্যার কথা টেলিকম সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে। কৌশিকী অমাবস্যার ভিড়ের দিনগুলিতে পোর্টেবল মোবাইল টাওয়ার ও সিগন্যাল বুস্টার মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে নেটওয়ার্ক সচল থাকে।
সব মিলিয়ে, ‘ডিজিটাল তারাপীঠ’-এর ভাবনা অত্যন্ত আধুনিক হলেও তার সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্বল পরিকাঠামো। যে কারণে অ্যাপ নির্ভর ভিআইপি পুজোর ব্যবস্থা সাধারণ পুণ্যার্থীদের জন্য কতটা সুবিধাজনক হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।