Bartaman Logo
১০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেশদ্রোহিতার নামে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, আতঙ্কে ৫৩ লক্ষ টাকা খোয়ালেন বৃদ্ধ, বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ

নিউটাউনের ৭৭ বছরের বৃদ্ধ ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে ৫৩ লক্ষ টাকা প্রতারকদের হাতে তুলে দিলেন। সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

দেশদ্রোহিতার নামে ডিজিটাল অ্যারেস্ট, আতঙ্কে ৫৩ লক্ষ টাকা খোয়ালেন বৃদ্ধ, বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ
  • ১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: আপনি দেশদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত! সেই সঙ্গে মানি লন্ডারিং করেছেন! কথাটা শুনেই চমকে উঠেছিলেন নিউটাউনের এক ৭৭ বছরের বৃদ্ধ। কারণ, ফোনের ওপারে যিনি ধমক দিচ্ছিলেন, তিনি ‘সিবিআই অফিসার’! সিবিআই থেকে ‘সুপ্রিম কোর্ট’। পুলিশ থেকে এজেন্সি। একের পর এক জেরা। ডিজিটাল অ্যারেস্ট! বৃদ্ধের তখন প্রাণ যায় যায় অবস্থা। ‘অফিসাররা’ অবশ্য তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ দেন। বৃদ্ধকে তাঁরা বলেন, আপনার ব্যাংকে গচ্ছিত যত টাকা আছে, সব আমাদের পাঠান। সেই টাকা যাচাই করে দেখা হবে। সব ঠিক থাকলে টাকা আবার ফেরত দেওয়া হবে। সেই কথায় বিশ্বাস করে তিনি ৫৩ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন। তারপর সব ‘অফিসার’ উধাও। টাকাও ফিরে পাননি। তারপরই তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছেন। ওই বৃদ্ধ এখন বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হঠাৎ তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। প্রথমে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। তারপর ভিডিয়ো কল করে শুরু হয় জেরা। যে প্রতারক প্রথম ফোন করে, সে নিজেকে সিবিআইয়ের ডিআইজি বলে পরিচয় দেয়। তারপর আরও কয়েকজন ভুয়ো আধিকারিক তাঁকে জেরা করে। এমনকি, তাঁকে সুপ্রিম কোর্টেরও ভয় দেখানো হয়। ডিজিটাল অ্যারেস্ট হয়ে তিনি বাড়ি঩তেই থাকেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এই ভেবে ভয় পেয়ে যান। শেষে নিজের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, এফডি ভাঙিয়ে সেই টাকা প্রতারকদের দেওয়া অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। তিনি রোজই অ্যাকাউন্ট চেক করতেন। টাকা ফিরে এল কি না। কিন্তু, পরে ভুয়ো সিবিআই অফিসাররা আর তাঁর ফোন ধরত না। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগ করেছেন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে আইনে কোনো অ্যারেস্ট নেই। তবুও মানুষজন প্রতারণার শিকার হন। এই ধরনের হুমকি ফোন পেলে সতর্ক হন। আর্থিক লেনদেন করা চলবে না।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ