নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: শিশু পাচারের অভিযোগ! প্রথমে বেঙ্গালুরু সাইবার ক্রাইম থানার ফোন, তারপর আইপিএসের ভিডিয়ো কল! ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়েছিলেন ক্যান্সার গবেষণায় যুক্ত অবসরপ্রাপ্ত এক বিজ্ঞানী। সব মিলিয়ে এক কোটি টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন তিনি। নিউটাউনের আবাসিক তথা বাহাত্তর বছরের ওই বিজ্ঞানী বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অবশেষে ওই ঘটনার তদন্তে নেমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম বিকু কুমার, দুরন্ত পাত্র এবং মহম্মদ জাভেদ। বিকুর বয়স ২৪ বছর। বাড়ি বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলায়। দুরন্তের বাড়ি হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে। তার বয়স ২৮। জাভেদের বাড়ি কলকাতায়। সে সবচেয়ে বড়ো। বয়স ৪৬ বছর। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রে যুক্ত বাকিদের খোঁজ চলছে। সেই সঙ্গে টাকা উদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে। প্রতারিত বিজ্ঞানী নিউটাউন শহরের সিডি ব্লকে থাকেন। ক্যান্সার গবেষণার কাজে তিনি দেশ-বিদেশ ঘুরেছেন। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কারও। হঠাৎ, একদিন পুলিশের ফোন পান। তাঁকে বলা হয়, সাইবার ক্রাইম থানার অফিসার বলছি। তারপরই বলা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে চাইল্ড ট্রাফিকিংয়ের মামলা রয়েছে। তাঁর আধার কার্ড ব্যবহার করে বেঙ্গালুরুতে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চলছে বলেও জানানো হয়। তারপরই ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয় বিজ্ঞানীকে। তিনি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান। বেশ কিছু নথিপত্রও দেখায় প্রতারকরা। তাঁকে জানানো হয়, আয়কর এবং ইডিকে দিয়ে ব্যাংক ভেরিফিকেশন করতে হবে। তার জন্য এক কোটি টাকা পাঠাতে বলে প্রতারকরা। তিনি আসল পুলিশ ভেবে বিশ্বাস করে সেই টাকা পাঠিয়েও দেন। পরে বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। জীবনের সঞ্চিত সব টাকা খুইয়ে তিনি চরম বিপাকে পড়েন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। তারপর তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কিছু নেই। এই ধরনের ফোন এলে সতর্ক হতে হবে। কয়েকমাস আগে নিউটাউনেই ডিজিটাল অ্যারেস্টে এক কোটি টাকা খুইয়েছিলেন প্রবীণ নাগরিক।



