Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবরূপে ফিরছে দীঘার জুরাসিক পার্ক

দীঘার জুরাসিক পার্ক নতুন প্রযুক্তিতে ফিরছে। দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। বিস্তারিত জানুন।

নবরূপে ফিরছে দীঘার জুরাসিক পার্ক
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: নবরূপে, নবআঙ্গিকে ফিরছে দীঘা সায়েন্স সেন্টারে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জুরাসিক পার্ক।  পার্কটিকে ঢেলে সাজিয়ে আবার চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ডাইনোসরের বিস্ময়কর জগতে ফের ভ্রমণের সুযোগ পেতে চলেছেন দর্শকরা। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পার্কটিকে আরও আকর্ষণীয়, তথ্যবহুল ও দর্শকবান্ধব করে তোলার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। দীঘা বেড়াতে এলে এবার সমুদ্রের পাশাপাশি অপেক্ষা করছে কোটি কোটি বছর আগের বিস্ময়কর পৃথিবীর দরজা খুলে দেওয়ার রোমাঞ্চকর আহ্বান। বর্তমানে পার্কের বিভিন্ন অংশে সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে।

Advertisement

২০১০ সালে বিজ্ঞান কেন্দ্রের পিছনের অংশে গাছগাছালি ঘেরা বড় জায়গায় এই পার্কটি চালু হয়। সেখানে ডাইনোসরের উৎপত্তি, তার বিবর্তন, জীবনযাত্রা, বিলুপ্তি-পর্যায়ক্রমে সবকিছুই অভিনব লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করত। দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি পর্যটক, বিজ্ঞানপ্রেমী ও ছাত্রছাত্রীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তবে বছরদশেক আগে কিছু টেকনিক্যাল ইস্যুতে পার্কটি বন্ধ হয়ে যায়। পূর্বের সেই জনপ্রিয়তাকে নতুন মাত্রা দিতে এবার পার্কটিকে আধুনিকীকরণের পথে হাঁটছে কর্তৃপক্ষ। 
ওই সময় পার্কটিতে ডাইনোসর যে পরিবেশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে, তার উপযোগী খেজুর থেকে শুরু করে বেশকিছু কৃত্রিম গাছ বসানো হয়েছিল। লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের বিশেষ পদ্ধতিতে ডাইনোসরের ছুটে বেড়ানো এবং তার গগনবিদারী ডাক শুনতে পেতেন দর্শকরা। পর্যটকরা যাতে ডাইনোসর সম্পর্কে বিশদে জানতে পারেন, ওয়াকথ্রুর দেওয়ালে বিভিন্ন চিত্রসহ তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু, পার্কটি বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়েছিল। ডাইনোসরের মডেলগুলি পড়ে পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।  
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডাইনোসরের বিদ্যমান মডেলগুলি নতুনভাবে পরিচর্যা ও পুনর্গঠনের পাশাপাশি দর্শকদের জন্য আরও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি এবং লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর নানা বিস্ময়কর অধ্যায়কে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা হবে। পার্কে থ্রি-ডি স্ক্রিন বসানো হবে। সেই স্ক্রিনে ডাইনোসরের উৎপত্তি, জীবনযাত্রা, বিবর্তন, বিলুপ্তি সবই  ফুটে উঠবে। আগে ছিল মুভিং ডাইনোসর। এবার আর তা নড়াচড়া করবে না। প্রত্যেকটি ডাইনোসরের গায়ে সুইচ থাকবে। দর্শকরা সুইচ টিপে সেই প্রজাতির ডাইনোসরের সম্পর্কে জানতে পারবেন। দর্শকদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি হয়েছে। দু’পাশে বসছে রেলিং। পর্যটকরা যেদিক দিয়ে পার্কে পৌঁছবেন, সেই ওয়াকথ্রু তৈরির কাজও চলছে দ্রুতগতিতে। 
উল্লেখ্য, ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন রাষ্ট্রীয় সংগ্রহালয় পরিষদের পরিচালনায় সায়েন্স সেন্টারটি পূর্ব ভারতের জনপ্রিয় বিজ্ঞানকেন্দ্র।   এখানে লাইফ সায়েন্স, ফান সায়েন্স আর রিফ্লেকশন-তিনটি বিভাগে গ্যালারি রয়েছে।  প্রতিটিতেই বহু রকমের আইটেম রয়েছে।  রয়েছে স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টার। রয়েছে নানা গাছগাছালি এবং বিজ্ঞান সহায়ক আইটেমে সমৃদ্ধ সাজানো-গোছানো সায়েন্স পার্ক। নজর কাড়ে বাটারফ্লাই গার্ডেন ও ভেষজ উদ্যান। রয়েছে জিম পার্কও। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পর্যটক, ছাত্রছাত্রী, বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ আসেন বিজ্ঞানকে কাছ থেকে জানা ও অনুভব করার উদ্দেশ্যে।   
সায়েন্স সেন্টারের কিউরেটর হ্যামলেট গুড়িয়া বলেন, উন্নত প্রযুক্তির সাহা঩য্যে পার্কটিকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হতে চলা এই পার্কটি বিজ্ঞান ও কল্পনার এক অনন্য মেলবন্ধনের অভিজ্ঞতা উপহার দেবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক রিলেশন এগজিকিউটিভ কুসুমিতা চক্রবর্তী বলেন, পার্কটি ফের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, এমনটাই আশা করছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ