


সংবাদদাতা, কাঁথি: ‘অমৃতভারত’ প্রকল্পে ভোল বদলাতে চলেছে দীঘা রেলস্টেশনের। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নানা উন্নত পরিকাঠামোর কাজ জোরকদমে চলছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে। বিমানবন্দরের ধাঁচে অত্যাধুনিক ও ঝাঁ-চকচকে স্টেশন হিসাবে গড়া হবে। আড়াই বছর আগে অমৃতভারত তকমা পায় দীঘা রেলস্টেশন। ২০২৪ সালের ২৬ফেব্রুয়ারি রাজ্যের অন্যান্য স্টেশনগুলির সঙ্গে দীঘা রেলস্টেশনের উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের কাজের ভার্চুয়াল সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপর মাঝখানে ধীরগতিতে কাজ চললেও বছরদেড়েক আগে থেকে দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে।
রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র দীঘা। দীঘা রেলস্টেশনে লোকাল ও দূরপাল্লার বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল করে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার পর্যটক দীঘায় আসা-যাওয়া করেন। জগন্নাথ মন্দির তৈরি হওয়ার পর দীঘায় ভিড় অনেকগুণ বেড়েছে। পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় দীঘা স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্টেশনের মূল বিল্ডিং খোলনলচে বদলে ফেলা হচ্ছে। কনকোর্স এরিয়া(স্টেশনের মধ্যে বড় হলরুম) এবং অন্দরমহল এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পর্যটকদের বিমানবন্দরে প্রবেশের মতো অনুভূতি হয়। স্টেশনের প্রবেশদ্বার এবং বহির্গমন পথ সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনে তৈরি করা হচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বসার আসনগুলিকে উন্নত করা হচ্ছে। সেগুলি নতুন করে সাজানো হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মগুলিকেও নান্দনিক নকশায় সাজানো হচ্ছে। বর্তমানে প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং উঁচু করার কাজ জোরকদমে চলছে। উপরে শেড নির্মাণ ও সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। স্টেশন চত্বরজুড়ে আধুনিক মানের আলোকস্তম্ভ বসানোর কাজ চলছে। দূরপাল্লার যাত্রীদের সুবিধার জন্য উন্নতমানের ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতীক্ষালয় এবং পর্যাপ্ত শৌচালয় নির্মাণের কাজ চলছে। সুসজ্জিত পার্কিং এরিয়া গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক যাত্রীদের সুবিধার জন্য লিফট চালু হবে। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে এসকালেটর ও ফুট ওভারব্রিজ। এছাড়া স্টেশনে থাকছে ফুড সেন্টার, রেস্তরাঁ ও হস্তশিল্পের স্টল।
রেলদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, দীঘায় আগত হাজার হাজার পর্যটকের যাতায়াত ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও আরামদায়ক, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আনন্দদায়ক করে তোলা। জানা গিয়েছে, বর্তমানে ওড়িশার জলেশ্বর থেকে দীঘা রেললাইন চালু করার প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে। দীঘা-জলেশ্বর রেললাইন চালু হয়ে গেলে দীঘায় আরও বেশকিছু দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল করবে। পাঁশকুড়া-হলদিয়া-দীঘা দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে প্যাসেঞ্জারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের দীঘা ইউনিটের সভাপতি অলোককুমার জানা, সম্পাদক মানসকুমার পাল বলেন, অমৃতভারত প্রকল্পে দীঘা রেলস্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ হলে সৈকতশহরের পর্যটন মানচিত্রে আরও একটি পালক হিসাবে জুড়বে। তাছাড়া উন্নত পরিকাঠামো তৈরি হলে যাত্রীদের সুবিধা হবে।
রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন দীঘা রেলস্টেশনে যাতায়াত করেন। দ্রুত যাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শেষ হয়, তারজন্য আমরা রেলদপ্তরের কাছে আবেদন রেখেছি।